মেসির পেনাল্টি মিসে ভারী হয়েছিল ড্রেসিংরুমের পরিবেশ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। ম্যাচের একপর্যায়ে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিটে টানা তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হলেও ম্যাচের মাঝপথে আর্জেন্টিনা শিবিরে ছিল হতাশা, চাপ এবং অনিশ্চয়তার আবহ।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ শেষে সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন দলের গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের সময় নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন হতাশ ছিলেন, তেমনি বিরতির সময় অধিনায়ক লিওনেল মেসিও পেনাল্টি মিসের কারণে প্রবল অপরাধবোধে ভুগছিলেন।
নিজের পারফরম্যান্সে হতাশ মার্টিনেজ
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি স্বীকার করেন, ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নিজের ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
মার্টিনেজ বলেন, ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যাওয়ার পর তার মনে হচ্ছিল তিনি দলকে প্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করতে পারছেন না। এই অনুভূতি তাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সামনে সুযোগ এলে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চান। তার বিশ্বাস, এতদিন দলের অন্য খেলোয়াড়রা তাকে সহায়তা করেছেন, এবার তাদের জন্য নিজের দায়িত্ব পালনের সময় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
পেনাল্টি মিসের পর মেসির মানসিক অবস্থা
প্রথমার্ধে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ছিল বেশ চাপপূর্ণ। সেই মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
তার ভাষ্য, বিরতির সময় মেসি নিজের ভুলের জন্য ভীষণ অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি অনুভব করছিলেন, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ নষ্ট করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মার্টিনেজ বলেন, মেসি অতীতে অসংখ্যবার দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছেন। তাই সেই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল, এবার সতীর্থদের দায়িত্ব মেসির পাশে দাঁড়ানো এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া।
জয় নিশ্চিতের পর আবেগাপ্লুত আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক
শেষ বাঁশি বাজার পর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হলেও নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মার্টিনেজ। চোখে জল নিয়ে তিনি জানান, একসময় তার মনে হয়েছিল হয়তো বিশ্বকাপ অভিযান সেখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিল এই ভেবে যে দলকে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে ঘুরে দাঁড়াতে পারায় সেই হতাশা আনন্দে বদলে যায়।
মার্টিনেজের মতে, আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা সবসময় দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করেন। অন্য অনেক দেশের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও তারা লড়াইয়ের মানসিকতা কখনো হারান না।
কঠিন পথ পেরিয়ে শেষ আটে
বিজ্ঞাপন
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্ব মোটেও সহজ ছিল না। কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। এরপর মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করতে হয়েছে।
এই কঠিন দুই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে মার্টিনেজ বলেন, গত বিশ্বকাপের তুলনায় এবার অনেক বেশি চাপের মধ্যে খেলতে হয়েছে। তবে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য দল প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, প্রয়োজনে কঠিন লড়াই করেই জয় তুলে আনবে আর্জেন্টিনা। যদিও ভবিষ্যতের ম্যাচগুলো কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
ভাইরাল পোস্টের ব্যাখ্যাও দিলেন 'দিবু'
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী ছবি পোস্ট করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ছবিতে একজন চিকিৎসক একজন রোগীর রক্তচাপ পরীক্ষা করছেন, যা দ্রুতই সমর্থকদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই পোস্টের ব্যাখ্যায় হাস্যরসের সুরে মার্টিনেজ বলেন, ছবিটি মূলত ম্যাচ চলাকালে সমর্থক এবং দলের সবাই যে ভয়ঙ্কর স্নায়ুচাপের মধ্যে ছিলেন, সেটিই প্রতীকীভাবে তুলে ধরে।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, এমন নাটকীয় পরিস্থিতিই যেন আর্জেন্টিনা ফুটবলের পরিচয়। কষ্ট, লড়াই, উত্তেজনা আর শেষ মুহূর্তের সাফল্য—সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রার নতুন অধ্যায়।








