মেসিকে বিশ্বকাপে রাখতেই পক্ষপাতের অভিযোগ মিশর কোচের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মিশর। ম্যাচের শেষ দিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর শুধু পরাজয় নয়, রেফারিং নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে টানা তিনটি গোল করে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই জয়ে লিওনেল মেসির দল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।
সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান দাবি করেন, পুরো ম্যাচটি কারচুপির শিকার হয়েছে এবং কিছু সিদ্ধান্ত পূর্বপরিকল্পিত বলেই তার মনে হয়েছে। তার অভিযোগ, বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে ফিফা চায় আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে আরও এগিয়ে যাক।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, যদি আগে থেকেই আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর অর্থ কী? তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতি প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
বিজ্ঞাপন
মিশর কোচ আরও দাবি করেন, ম্যাচে তার দল আর্জেন্টিনার তুলনায় ভালো ফুটবল খেলেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার মতে, মাঠের খেলার চেয়ে রেফারিং ম্যাচের ফল নির্ধারণে বেশি প্রভাব ফেলেছে।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ম্যাচের শেষ দিকে মিশর একটি স্পষ্ট পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল। কিন্তু রেফারি সেই আবেদন আমলে নেননি। একই সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্তও তিনি ভুল বলে দাবি করেন।
হোসাম হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, জিকোর গোলটি বৈধ ছিল এবং সেটি বাতিল হওয়ায় ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। এছাড়া সম্ভাব্য পেনাল্টির আবেদন প্রত্যাখ্যান করাও তার দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি মিশরের এই কোচ। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চলমান বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো আর দেখবেন না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, ফুটবলে ন্যায্য প্রতিযোগিতা থাকলে তার দল বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে। নিজের খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং ফলাফল তাদের পারফরম্যান্সের যথাযথ প্রতিফলন নয়।
ম্যাচের পর মিশর শিবিরের হতাশা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের অনেকে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিজ্ঞাপন
তবে হোসাম হাসানের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। একইভাবে ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
ফলে রেফারিং, ভিএআরের ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফুটবল অঙ্গনের অনেকের নজর এখন ফিফা এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় কি না, সেদিকে।








