আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি লড়াইয়ে কারা এগিয়ে?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বহুল প্রতীক্ষিত এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আগামী ১২ জুলাই (রবিবার) সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে দুই দল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অতীতের পরিসংখ্যান এবং বিশ্বকাপের ইতিহাস—সব দিক থেকেই ম্যাচটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকে দুর্দান্ত লড়াই করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড এ পর্যন্ত মোট সাতবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সুইজারল্যান্ড এখনো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপেও দুই দলের দেখা হয়েছে দুইবার এবং দুইবারই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ফলে বিশ্বমঞ্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শতভাগ সফলতার রেকর্ড ধরে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বিশ্বকাপে দুইবারের সাক্ষাৎ
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে প্রথমবার আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৬৬ সালের আসরে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে লুইস আরতিমে ও এরমিন্ডো ওনেগার গোলের সুবাদে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। যদিও ওই টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি।
এরপর দ্বিতীয়বার দেখা হয় ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১১৮ মিনিটে আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই আসরে ফাইনাল পর্যন্ত উঠলেও শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল তারা।
প্রীতি ম্যাচেও সুইসদের বিপক্ষে অপরাজিত
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের বাইরে দুই দল আরও পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। ১৯৮০, ১৯৮৪, ১৯৯০, ২০০৭ ও ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত এসব ম্যাচেও আর্জেন্টিনা হারেনি। সব মিলিয়ে সাত ম্যাচে পাঁচ জয় ও দুই ড্র নিয়ে সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে মেসিদের দল।
সাম্প্রতিক ফর্মে দুই দল
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখনো অপরাজিত থাকলেও নকআউট পর্বে তাদের পথ খুব একটা সহজ ছিল না। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেতে হয়েছে। তার আগেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
নকআউটের দুটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনা দুটি করে গোল হজম করেছে, যা তাদের রক্ষণভাগ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আক্রমণভাগে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি ধারাবাহিকভাবেই কার্যকর ফুটবল খেলছে।
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড টুর্নামেন্টে দারুণ শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচে তারা অপরাজিত রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জয় ও দুটি ড্র রয়েছে তাদের ঝুলিতে। কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় দিয়ে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে সুইসদের।
সুইজারল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সর্বোচ্চ অর্জন কোয়ার্টার ফাইনাল। এর আগে ১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালে তারা শেষ আটে উঠেছিল। এবারও একই পর্যায়ে পৌঁছেছে দলটি। ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে সুইসরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা চাইবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে। শেষ ষোলোর নাটকীয় জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে স্কালোনির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে, তবে লড়াই সহজ নয়
বিজ্ঞাপন
অতীতের সাতটি দেখায় আর্জেন্টিনা অপরাজিত থাকলেও বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সুইজারল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। দলটি সংগঠিত রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং নকআউট ম্যাচে লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে।
তবুও ইতিহাস, অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতার কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই অনেকের কাছে ফেভারিট ধরা হচ্ছে। যদি তারা সুইজারল্যান্ডকে হারাতে পারে, তাহলে সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে অথবা ইংল্যান্ড।
চলতি বিশ্বকাপের শেষ আটে টিকে থাকা একমাত্র দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা। বিপরীতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের ছয়টি দল জায়গা করে নিয়েছে। ফলে এই ম্যাচটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকা বনাম ইউরোপের মর্যাদার লড়াই হিসেবেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।








