Logo

খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৪
খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষ, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা
ছবি: সংগৃহীত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান জিমনেসিয়ামে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জিমনেসিয়ামে খেলা চলাকালে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পিএমই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী জিমনেসিয়ামের বাইরে অবস্থান নেন।

এ সময় এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাইফুল্লাহ জিমনেসিয়াম থেকে বের হয়ে শহীদ মিনারের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে বাইরে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে উত্তেজিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর চড়াও হন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন, ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ এবং সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলামের ওপর হামলা, হুমকি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কিবরিয়া, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন সৈকত, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুজয় দাস, মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাফি এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফিজসহ আরও কয়েকজন। অভিযুক্ত মাহাফিজ বর্তমানে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিবরিয়ার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত মাহাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযুক্ত আহাদ হোসেন সৈকত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনারা টাকা খেয়ে হলুদ সাংবাদিকতা করেন। আমি কোনো সাংবাদিককে মারিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হামলার শিকার দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. ইমরান হোসেন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণ করতে গেলে পিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী কিবরিয়াসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি মো. সাব্বির আহম্মেদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ওপর চড়াও হন, কাঁধে আঘাত করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সংবাদ পরিক্রমার প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, সহকর্মীদের ওপর হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন তাকে হুমকি দিয়ে মোবাইল ভেঙে ফেলার কথা বলেন এবং কাজে বাধা দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কার্যদিবসে ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD