Logo

বিতর্কের মাঝেও আর্জেন্টিনার গোল বৈধ, ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ভিএআর রেফারি

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩:২৮
বিতর্কের মাঝেও আর্জেন্টিনার গোল বৈধ, ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক ভিএআর রেফারি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াই। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মিশর। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে মিশরের একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করা হলেও, পরে আর্জেন্টিনার গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ উঠলেও সেটি কেন বহাল রাখা হলো—এই প্রশ্ন ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

এই দুই ঘটনার নিয়মগত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংলিশ ফুটবলের সাবেক অভিজ্ঞ রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তা অ্যান্ডি ডেভিস। দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে দায়িত্ব পালন করা ডেভিসের বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন।

কেন বাতিল হলো মিশরের গোল?

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের ৬২ মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে উল্লাসে মেতে ওঠে মিশর। গোলটি করেন মোস্তফা জিকো। কিন্তু উদযাপনের কিছুক্ষণ পরই ভিএআরের পরামর্শে খেলা থামান রেফারি এবং মনিটরে রিপ্লে দেখে গোলটি বাতিল করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর ঠিক আগে মিশরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেন এবং তার পায়ের ওপর বুট দিয়ে চাপ দেন। ভিএআরের মতে, এটি স্পষ্ট ফাউল ছিল এবং সেই ফাউলের ধারাবাহিকতা থেকেই মিশরের গোলটি আসে।

অ্যান্ডি ডেভিসের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্তিয়ার ওই ফাউল আর্জেন্টিনার আক্রমণ নষ্ট করে এবং একই আক্রমণপর্বে মিশর গোল আদায় করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে গোলটি বাতিল করাই সঠিক সিদ্ধান্ত।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, ঘটনাটি পেনাল্টি বক্সের বাইরে এবং মাঠের অনেক দূরে ঘটেছিল বলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। কিন্তু যদি একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় গোল হয় এবং তার শুরুতে স্পষ্ট ফাউল থাকে, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। রেফারির সামনে জার্সি টানা ও পায়ে চাপ দেওয়ার দৃশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলে গোল বহাল রাখার সুযোগ প্রায় থাকেই না।

আর্জেন্টিনার গোল কেন বহাল থাকল?

ম্যাচের শেষ দিকে মিশর পরপর দুটি ঘটনায় ফাউলের আবেদন জানায়। প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার মিশরের হামদি ফাতির জার্সি টেনে ধরেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর আরেকটি ঘটনায় আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে মোহাম্মদ সালাহকে হুলিয়ান আলভারেজ ফাউল করেছেন বলে দাবি করে মিশরের খেলোয়াড়রা।

বিজ্ঞাপন

এই দুই ঘটনার পরই আক্রমণে উঠে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা। ফলে প্রশ্ন ওঠে, মিশরের গোল বাতিল করা হলে আর্জেন্টিনার গোলের ক্ষেত্রেও কেন একই ধরনের পর্যালোচনা করা হয়নি।

ভিএআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় জার্সি টানার বিষয়টি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য হয়েছিল এবং সেটি হামদি ফাতির বল পাওয়ার সম্ভাবনা বা খেলার গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। ফলে এটিকে স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

অন্যদিকে, সালাহর সঙ্গে আলভারেজের সংঘর্ষও ভিএআর পর্যবেক্ষণ করে। তাদের মূল্যায়নে, দুই ফুটবলারের স্বাভাবিক গতির কারণে বুটের সংস্পর্শ তৈরি হয়েছিল এবং সেখানে আলভারেজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল ছিল না।

বিজ্ঞাপন

সাবেক রেফারির বিশ্লেষণ

অ্যান্ডি ডেভিস মনে করেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলো রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার মতে, ম্যাক অ্যালিস্টার জার্সি টেনে কিছুটা ঝুঁকি নিয়েছিলেন ঠিকই, তবে সেটি এতটাই ক্ষণস্থায়ী ছিল যে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বল নিয়ন্ত্রণ বা আক্রমণে অংশগ্রহণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। তাই সেটিকে পেনাল্টিযোগ্য ফাউল বলা যায় না।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একইভাবে সালাহর ঘটনাতেও তিনি মনে করেন, ফাউলের চেয়ে পেনাল্টি আদায়ের চেষ্টা বেশি ছিল। দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক গতির কারণে তাদের বুটে সংস্পর্শ হয়, কিন্তু সেখানে আলভারেজের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ফাউলের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখাই যথাযথ ছিল।

বিতর্ক থামছে না

বিজ্ঞাপন

যদিও সাবেক রেফারি ও ভিএআরের এই ব্যাখ্যা নিয়মের দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্তগুলোকে সমর্থন করছে, তবুও ম্যাচটি ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। মিশরের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ফুটবল ফেডারেশন রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ম্যাচ-পরবর্তী সময়ে একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শিবিরের দাবি, নিয়ম মেনেই ম্যাচ পরিচালিত হয়েছে এবং দলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের ফলেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে এই ম্যাচের রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD