Logo

ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল : পরিসংখ্যানে কারা এগিয়ে?

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৬:২৭
ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল : পরিসংখ্যানে কারা এগিয়ে?
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বহুল প্রতীক্ষিত এক লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দল ফ্রান্স এবং আফ্রিকার অন্যতম সেরা প্রতিনিধিত্বকারী মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি হতে চলা এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উপকণ্ঠে অবস্থিত ফক্সবরো স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করার লড়াইয়ে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অতীতের রেকর্ড এবং তারকাদের উপস্থিতি ম্যাচটিকে বাড়তি গুরুত্ব এনে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া দলটি নকআউট পর্বেও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। যদিও শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সহজ জয় পায়নি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। প্রতিপক্ষের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলই ব্যবধান গড়ে দেয় এবং ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান ইউরোপিয়ান পরাশক্তি।

অন্যদিকে, মরক্কোও সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে উঠেছে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের আরও একটি প্রমাণ দিয়েছে আটলাস লায়ন্স। কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে দলটি সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মুখোমুখি লড়াইয়ে কারা এগিয়ে?

অতীতের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই দলের অফিসিয়াল ম্যাচে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। মুখোমুখি পরিসংখ্যানে মোট অফিসিয়াল ম্যাচ ৬টি। এর মধ্যে ফ্রান্সের জয় ৪টি এবং ড্র হয়েছে ২টি। তবে সরাসরি জয় না থাকলেও একবার পেনাল্টি শুটআউটে জয়ী হয়েছে মরক্কো।

সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। সে ম্যাচে থিও হার্নান্দেজ ও রানদাল কোলো মুয়ানির গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে মরক্কোর ঐতিহাসিক যাত্রার ইতি টানে ফ্রান্স। এরপর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে আবারও একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ১৯৯৮ সালের কিং হাসান-২ টুর্নামেন্টে নির্ধারিত সময়ে ২-২ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে মরক্কো জয় পেলেও সেটি মূল পরিসংখ্যানে ড্র হিসেবেই বিবেচিত হয়। ২০০৭ সালের প্রীতি ম্যাচও ২-২ সমতায় শেষ হয়েছিল।

ফ্রান্সের শক্তির জায়গা

আক্রমণভাগে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ইতোমধ্যে চলতি বিশ্বকাপে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলে, যিনি গ্রুপ পর্বে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এছাড়া দলে রয়েছে একাধিক বিশ্বমানের আক্রমণভাগের ফুটবলার, যারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে কষ্ট হলেও ফ্রান্স দেখিয়েছে যে প্রয়োজন হলে কঠিন ও শারীরিক লড়াইয়েও তারা সফল হতে পারে। দলটির ফুটবলারদের মতে, তারা শুধু নান্দনিক ফুটবলই নয়, প্রয়োজন হলে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সমান দক্ষতায় সামাল দিতে পারে।

মরক্কোর আত্মবিশ্বাসের কারণ

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর এবারও শক্তিশালী পারফরম্যান্স ধরে রেখেছে মরক্কো। আফ্রিকার দলটি এখন আর কোনো অঘটনের দল নয়, বরং নিয়মিতভাবে বড় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বিজ্ঞাপন

গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। রক্ষণভাগে আছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি। মাঝমাঠে আজেদিন উনাহি এবং আক্রমণে ফলস নাইন হিসেবে ইসমাইল সাইবারির কৌশল দলটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করেছে।

কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি জানিয়েছেন, ২০২২ সালের সেমিফাইনালের প্রতিশোধ নেওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং বিশ্বকাপে আরও দূর এগিয়ে দেশের মানুষকে গর্বিত করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

কোচ পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মরক্কোর জন্য সুফল বয়ে এনেছে। আফ্রিকান নেশনস কাপের পর দায়িত্ব ছাড়েন ওয়ালিদ রেগরাগুই। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোহাম্মদ ওয়াহবি দলের কৌশল ও একাদশে পরিবর্তন এনে ইতিবাচক ফল পেয়েছেন। নতুন পরিকল্পনায় মরক্কোর আক্রমণ ও মাঝমাঠ আরও কার্যকর হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সের জন্য দুশ্চিন্তা

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ফ্রান্সের অন্যতম বড় উদ্বেগ শৃঙ্খলাজনিত। ব্র্যাডলি বারকোলা, মানু কোনে এবং মাইকেল অলিজে ইতোমধ্যে হলুদ কার্ড দেখেছেন। মরক্কোর বিপক্ষে আবার কার্ড দেখলে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে খেলতে পারবেন না তারা। বিশেষ করে অলিজের অনুপস্থিতি ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে নজর থাকবে যাদের ওপর

এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গতি, গোল করার দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সামর্থ্য ফ্রান্সকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে আশরাফ হাকিমি, ইয়াসিন বুনু এবং আজেদিন উনাহিদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।

বিশ্লেষণে কারা এগিয়ে?

বিজ্ঞাপন

অতীতের মুখোমুখি রেকর্ড, বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা এবং চলতি বিশ্বকাপের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফ্রান্সকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে মরক্কো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী দলকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। ফলে বোস্টনের কোয়ার্টার ফাইনালটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD