Logo

নরওয়ে-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ইতিহাস ও পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৭:১৬
নরওয়ে-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের ইতিহাস ও পরিসংখ্যানে এগিয়ে কারা?
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। আগামী ১১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে একদিকে থাকবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন, অন্যদিকে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। দুই তারকা স্ট্রাইকারের দ্বৈরথ ম্যাচটিকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত ইংল্যান্ড প্রত্যাশা অনুযায়ীই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে থ্রি লায়ন্সরা। উচ্চভূমির কঠিন পরিবেশ, প্রতিপক্ষের চাপ এবং এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেও জয় ধরে রাখে ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমক নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি। টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং দ্রুতগতির খেলায় প্রতিপক্ষকে দারুণভাবে চাপে রেখেছে নরওয়ে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গোল্ডেন বুটের লড়াইও জমে উঠেছে

এই ম্যাচে শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নয়, গোল্ডেন বুটের লড়াইটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে হ্যারি কেইনের গোল সংখ্যা ৬, আর ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ৭ গোল নিয়ে এগিয়ে আছেন আর্লিং হালান্ড। ফলে এই ম্যাচের পর অন্তত একজনের গোল্ডেন বুটের দৌড় থেমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে কে?

অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে পরিষ্কারভাবে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। মুখোমুখি পরিসংখ্যানে মোট ম্যাচ ১২টি। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের জয় ৭টি, নরওয়ের জয় ২টি এবং ড্র হয়েছে ৩টি।

দুই দলের ফুটবল ইতিহাস শুরু হয় ১৯৩৭ সালে। তবে এবারই প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে তারা।

বিজ্ঞাপন

শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের একচেটিয়া

প্রথম চারটি ম্যাচেই নরওয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। ওই চার ম্যাচে মোট ২০টি গোল করেছিল থ্রি লায়ন্স, বিপরীতে নরওয়ে করতে পেরেছিল মাত্র দুটি গোল। ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

নরওয়ের স্মরণীয় দুই জয়

বিজ্ঞাপন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নরওয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় জয় আসে ১৯৮১ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। অসলোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতে বড় চমক দেখায় নরওয়ে। ম্যাচটি শুধু ফলাফলের জন্য নয়, ধারাভাষ্যকার বিয়োরগে লিলেলিয়েনের বিখ্যাত আবেগঘন মন্তব্যের কারণেও ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

এরপর ১৯৯৩ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও অসলোতে ২-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে দেয় নরওয়ে।

সর্বশেষ মুখোমুখি

বিজ্ঞাপন

দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ওয়েন রুনির একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।

সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন জর্ডান হেন্ডারসন, যিনি বর্তমান স্কোয়াডে এখনও রয়েছেন।

বর্তমান ফর্মে দুই দল

বিজ্ঞাপন

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলছে। শক্তিশালী রক্ষণভাগের পাশাপাশি আক্রমণেও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দলটি। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি আর্লিং হালান্ড। তার গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং দ্রুতগতির আক্রমণভাগ ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের মতো দলকে বিদায় করেছে। দলগত পারফরম্যান্সও নরওয়েকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

সেমিফাইনালে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ

বিজ্ঞাপন

এই ম্যাচের বিজয়ী দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, মিশর অথবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলবে। তাই শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষের জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে জয়ী দলকে।

ইতিহাস বনাম বর্তমান বাস্তবতা

মুখোমুখি রেকর্ডে ইংল্যান্ড স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও চলতি বিশ্বকাপে নরওয়ের পারফরম্যান্স তাদের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একদিকে ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে হালান্ডকে ঘিরে নরওয়ের দুর্দান্ত ছন্দ—সব মিলিয়ে মায়ামির কোয়ার্টার ফাইনালটি হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম উপভোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD