আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিতে মেসির ‘লাকি চার্ম’ রেফারি এলফাত

ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ম্যাচের প্রধান রেফারি ইসমাইল এলফাত। মরক্কোতে জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এই অভিজ্ঞ রেফারিকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কারণ, তার পরিচালনায় লিওনেল মেসির দল এখন পর্যন্ত কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালের জন্য ৪৪ বছর বয়সী এলফাতকে প্রধান রেফারির দায়িত্ব দিয়েছে ফিফা। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিন্স। চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ইতালির মাউরিসিও মারিয়ানি।
মেসির জন্য ‘লাকি চার্ম’ বা ‘সৌভাগ্যের’ রেফারি?
ইসমাইল এলফাতের সঙ্গে মেসির সম্পর্কের পরিসংখ্যান সত্যিই দারুণ। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) এলফাত যে ম্যাচগুলো পরিচালনা করেছেন, সেগুলোর প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে মেসির দল। শুধু জয়ই নয়, এসব ম্যাচে গোলও করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর লিগস কাপের ফাইনালে ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে শিরোপা জয়ের ম্যাচেও প্রধান রেফারি ছিলেন এলফাত। সেই ম্যাচে গোল করেছিলেন মেসি এবং টাইব্রেকারেও সফল হন তিনি। দীর্ঘ ২২ শটের টাইব্রেকারে ১০-৯ ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়ে ইন্টার মায়ামি।
পরবর্তীতে এমএলএসে এলফাতের পরিচালনায় আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। সবগুলোতেই জয় পেয়েছেন এবং করেছেন মোট চারটি গোল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
শুধু তাই নয়, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ের ম্যাচে এলফাত ছিলেন চতুর্থ রেফারি। ফলে মেসির ক্যারিয়ারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে গেছে।
ইংল্যান্ড সমর্থকদের আলোচনায় রেফারি
রেফারি হিসেবে এলফাতের নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থক এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ দাবি করছেন, অতীতের পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অবশ্য এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। ফুটবলে রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে ফিফা নির্ধারিত নিয়ম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে থাকে।
মরক্কো থেকে যুক্তরাষ্ট্র, অনন্য এক যাত্রা
ইসমাইল এলফাতের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মরক্কোয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি লটারি) পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
বিজ্ঞাপন
২০০৬ সালে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে ইউএসএল লিগ টু-র অস্টিন লাইটনিং ক্লাবের হয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে ফুটবলও খেলেছেন।
খেলোয়াড় থাকাকালীন রেফারিং নিয়ে প্রায়ই অসন্তুষ্ট থাকতেন। একপর্যায়ে নিজেই রেফারি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও পরে পুরোপুরি রেফারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মঞ্চে
বিজ্ঞাপন
২০১১ সালে মেজর লিগ সকারে চতুর্থ রেফারি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন এলফাত। পরের বছর থেকেই নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান।
২০১৬ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর ২০১৯ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পান। একই বছর কনকাকাফ গোল্ড কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে অলিম্পিক ফুটবল, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস এবং ২০২২ বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
চলতি বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার ঝুলি
চলমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এলফাত। গ্রুপ পর্বে জাপান-নেদারল্যান্ডস ও স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচেও ছিলেন তিনি।
এই তিন ম্যাচে তিনি একটি লাল কার্ড এবং আটটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের পর কিছু বিতর্কের মুখেও পড়তে হয় তাকে। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের অভিযোগ ছিল, ম্যাচের শুরুতে উরুগুয়ের কয়েকটি কঠিন ট্যাকলের বিরুদ্ধে তিনি যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নেননি। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে আগুস্তিন কানোবিয়োকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে প্রথমে একটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করলেও ভিএআরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। যদিও ব্রাজিল সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেনি।
কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা নন
চলতি মৌসুমে মেজর লিগ সকারে এলফাতের পরিসংখ্যান বলছে, তিনি প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেন না।
বিশ্বকাপের আগে এমএলএসে পরিচালিত ১০টি ম্যাচে তিনি ৪১টি হলুদ কার্ড, তিনটি লাল কার্ড এবং তিনটি পেনাল্টি দিয়েছেন। ফলে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালেও খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান দেখা যেতে পারে।
ফাইনালের টিকিটের লড়াই
বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। জয়ী দল ফাইনালে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে।
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রেফারি ইসমাইল এলফাতকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। অতীতের পরিসংখ্যান মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য ইতিবাচক হলেও, শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে দুই দলের পারফরম্যান্সেই। এখন দেখার বিষয়, এলফাতের উপস্থিতিতে মেসির অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকে, নাকি সেই ধারায় ইতি টানে ইংল্যান্ড।








