মেসিদের আজ ইংলিশ পরীক্ষা, কার হাতে ফাইনালের টিকিট?

ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মানেই ইতিহাস, আবেগ, বিতর্ক আর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ থেকে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড—দুই দলের প্রতিটি লড়াই ফুটবল ইতিহাসে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা এবং হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহ্যামের ইংল্যান্ড। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে দলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে কেইন ও বেলিংহ্যাম মিলে ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই করেছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ-পূর্ব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের সঙ্গে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের পরিচিতি কৌশলগত লড়াইকে আরও জমিয়ে তুলবে।
তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি অতীতের ইতিহাস নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, এটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হলেও মাঠে বর্তমানটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ইংল্যান্ডও অতীতের স্মৃতি নয়, নিজেদের বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে চায়।
দুই দলের লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৬৬ সালে আন্তোনিও রাত্তিনকে ঘিরে বিতর্ক, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’, ১৯৯৮ সালে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড কিংবা পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের প্রতিশোধ—সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথ সবসময়ই ফুটবলপ্রেমীদের বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
বিজ্ঞাপন
এবারের ম্যাচে একটি বিশেষ দিকও রয়েছে। অবাক করার মতো হলেও, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম সিনিয়র পর্যায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড গড়া এই তারকা এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের পারফরম্যান্সও স্কালোনির দলের আক্রমণভাগকে আরও কার্যকর করেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে তার গোলই দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিল।
অন্যদিকে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও দারুণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। মেক্সিকো ও নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতি সামলে শেষ চারে পৌঁছেছে তারা। কেইন ও বেলিংহ্যামের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটিকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
ম্যাচের অন্যতম বড় লড়াই হবে মাঝমাঠে। ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের দায়িত্ব থাকবে মেসিকে জায়গা না দেওয়া এবং এনজো ফার্নান্দেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পাসিং নিয়ন্ত্রণে রাখা। অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে সামলাতে হবে কেইন, বেলিংহ্যাম এবং উইং দিয়ে ওঠা বুকায়ো সাকা বা অ্যান্থনি গর্ডনের আক্রমণ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চলতি বিশ্বকাপে হেড থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলগুলোর একটি ইংল্যান্ড। তাই সেট-পিস ও ক্রস থেকেও আর্জেন্টিনাকে সতর্ক থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়; টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড—দুই দলের জন্যই এটি ইতিহাস গড়ার লড়াই। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচ নির্ধারণ করবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে কোন দল।








