Logo

মার্টিনেজের রেকর্ড ১০ সেভ, লাল কার্ডের পর অতিরিক্ত সময়ে ফাইনাল

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২২
মার্টিনেজের রেকর্ড ১০ সেভ, লাল কার্ডের পর অতিরিক্ত সময়ে ফাইনাল
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ১০টি সেভ করেন তিনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। তবে ইনজুরি সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

বিজ্ঞাপন

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে স্পেন। বল দখল, আক্রমণ, লক্ষ্যে শট—সব বিভাগেই এগিয়ে ছিল লা রোজারা। তবে দুর্দান্ত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কারণে গোলের দেখা পায়নি তারা।

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। লামিন ইয়ামালের প্রচেষ্টা ডিফ্লেক্ট হয়ে দানি ওলমোর কাছে গেলে তিনি আবার বল ফেরান ইয়ামালকে। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সম্মিলিত চেষ্টায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

শুরুর দিক থেকেই দুই দল পাল্টাপাল্টি আক্রমণের চেষ্টা করলেও স্পেনই ছিল বেশি কার্যকর। ওয়ারজাবালের একটি আক্রমণে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফাউলের আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি স্লাভকো ভিনসিচ। অন্যদিকে সপ্তম মিনিটে দ্রুত এগিয়ে এসে লিওনেল মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।

বিজ্ঞাপন

প্রথম ২৩ মিনিটে মাত্র ৩২ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ—এই তিন ফরোয়ার্ড মিলে বল স্পর্শ করেন মাত্র ১৭ বার।

স্পেনের মিডফিল্ডে রদ্রির উপস্থিতি ছিল দারুণ কার্যকর। তিনি মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে আর্জেন্টিনা নিজেদের অর্ধ থেকেই বের হতে হিমশিম খেতে থাকে।

৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার দারুণ পাসিং মুভ থেকে সুযোগ পান ওয়ারজাবাল। তার জোরালো শট নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্টিনেজ।

বিজ্ঞাপন

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর চোটের কারণে তাকে বদলি করে নামানো হয় নিকোলাস ওতামেন্দিকে। একই সময়ে কুকুরেয়ার একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।

প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল স্পেন, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। নিখুঁত পাসেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যে তো দূরের কথা, কোনো শটই নিতে পারেনি।

বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি পরিবর্তন এনে নিকো গঞ্জালেজের বদলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান। তবে মাঠে নেমেই পারেদেস রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন।

বিজ্ঞাপন

৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকলে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। এরপর ওলমোর ব্যাকপাস থেকে কুকুরেয়ার সামনে তৈরি হওয়া সুযোগও শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করেন গঞ্জালো মন্তিয়েল। ৬২ মিনিটে ফাবিয়ানের জায়গায় পেদ্রি এবং ওয়ারজাবালের পরিবর্তে ফেরান তোরেসকে নামায় স্পেন।

কিছুক্ষণ পর ওলমোর দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। এরপর ইয়ামালের দারুণ ক্রস থেকে তোরেসের নিচু হেডও নিরাপদে ধরে ফেলেন তিনি।

১৯৬৬ সালে পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

বিজ্ঞাপন

৭০ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে জিউলিয়ানো সিমিওনে এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর বদলে ফাকুন্দো মেদিনাকে মাঠে নামান স্কালোনি। অন্যদিকে ৭৫ মিনিটে ওলমো ও বায়েনার জায়গায় মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামসকে নামায় স্পেন।

ম্যাচের শেষ ভাগেও স্পেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। পেদ্রির শট, ইয়ামালের প্রচেষ্টা, কুবারসির দূরপাল্লার শট, লাপোর্তের হেড এবং উইলিয়ামসের শক্তিশালী প্রচেষ্টা—সবই অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

ইনজুরি সময়ের এক পর্যায়ে কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের আর্জেন্টিনার ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের ফ্রি-কিকও দারুণভাবে রুখে দিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন মার্টিনেজ। তার রেকর্ড ১০ সেভের সৌজন্যে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়, আর বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD