বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি নেইমারকে উৎসর্গ করলেন নিকো উইলিয়ামস

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসছে স্পেন। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নিতে গিয়ে নিজের ফুটবল জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার নামও তুলে ধরলেন স্প্যানিশ উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের এই অর্জনের একটি অংশ তার উদ্দেশেই উৎসর্গ করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস। তবে সেই গোলের পেছনে ছিল নিকো উইলিয়ামসের অসাধারণ অবদান। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তার নিখুঁত হেড পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান ফেরান তোরেস। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত নিকো বলেন, ‘আমি ভীষণ আনন্দিত। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। নেইমার আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আশা করি তিনি আমাদের এই ম্যাচ দেখেছেন। এই শিরোপার একটি অংশ আমি তার উদ্দেশেই উৎসর্গ করছি।’
ফাইনালে নিকো উইলিয়ামস ছিলেন স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রাণভোমরা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে তিনি একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। তবে সতীর্থ মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে ভিএআরের সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। গোলটি বাতিল হলেও নিজের ছন্দ হারাননি এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। কিছুক্ষণ পরই দারুণ এক হেড পাস থেকে ফেরান তোরেসকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিজের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে কোনো হতাশা নেই বলেও জানিয়েছেন নিকো। তার ভাষায়, ‘গোলটি বাতিল হয়েছে, তাতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি। দলের এই সাফল্যের কাছে ব্যক্তিগত অর্জন বা হতাশার কোনো মূল্য নেই।’
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে ধারাবাহিক নৈপুণ্যে স্পেনের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন নিকো উইলিয়ামস। ফাইনালেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দলের শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমারের প্রতি তার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ফুটবলপ্রেমীদের মনও ছুঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এই বক্তব্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং অনেকেই এটিকে একজন ফুটবলারের প্রতি আরেক ফুটবলারের আন্তরিক সম্মান হিসেবে দেখছেন।








