Logo

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় কোন ক্লাবের?

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
২০ জুলাই, ২০২৬, ১৫:১৭
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় কোন ক্লাবের?
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই শক্তিশালী দল স্পেন ও আর্জেন্টিনা। আর এই মহারণে শুধু জাতীয় দল নয়, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর প্রভাবও ছিল চোখে পড়ার মতো। ইউরোপের বড় বড় ক্লাব থেকে উঠে আসা তারকারাই মাঠ মাতিয়েছেন বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপের ৪৮ দলের দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সেমিফাইনালে স্পেন শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে আসে, অন্যদিকে নাটকীয় লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপার মঞ্চ নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

তবে ফাইনালে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় সরবরাহ করেছে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ক্লাবটির মোট ৯ জন ফুটবলার বিশ্বকাপের ফাইনাল স্কোয়াডে ছিলেন। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো পুরুষ বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্বকারী ক্লাবের মর্যাদা ধরে রেখেছে তারা।

১. অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ — ৯ জন খেলোয়াড়

বিজ্ঞাপন

খেলোয়াড়: হুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মোলিনা, হুয়ান মুসো, থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে (আর্জেন্টিনা), মার্কোস লোরেন্তে, আলেক্স বায়েনা, মার্ক পুবিল, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো (স্পেন)।

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে আর্জেন্টিনার দলে ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ, নাহুয়েল মলিনা, হুয়ান মুসো, থিয়াগো আলমাদা ও জিউলিয়ানো সিমিওনে। অন্যদিকে স্পেনের হয়ে খেলেছেন মার্কোস ইয়োরেন্তে, আলেক্স বায়েনা, মার্ক পুবিল ও আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো।

আর্জেন্টিনার আক্রমণের অন্যতম ভরসা হুলিয়ান আলভারেজ ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশায় ছিলেন। একই সঙ্গে রক্ষণভাগে মলিনাও ছিলেন স্কালোনির পরিকল্পনার অংশ।

বিজ্ঞাপন

২. বার্সেলোনা — ৮ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস, এরিক গার্সিয়া, পাও কুবারসি, হোয়ান গার্সিয়া (সবাই স্পেন)।

অ্যাটলেটিকোর পর সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় ছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার। কাতালান ক্লাবটির ৮ জন ফুটবলার স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তার সঙ্গে ছিলেন পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস, এরিক গার্সিয়া, পাও কুবার্সি ও জোয়ান গার্সিয়া।

ইয়ামাল পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের আক্রমণের অন্যতম বড় শক্তি ছিলেন। অন্যদিকে কুবার্সি রক্ষণভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন।

ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল ও টটেনহ্যাম হটস্পার থেকেও তিনজন করে খেলোয়াড় বিশ্বকাপ ফাইনালে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

৩. আর্সেনাল — ৩ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: ডেভিড রায়া, মার্টিন জুবিমেন্ডি, মিকেল মেরিনো (স্পেন)।

আর্সেনালের হয়ে স্পেনের দলে ছিলেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া, মার্টিন জুবিমেন্ডি ও মিকেল মেরিনো। মেরিনো নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন।

বিজ্ঞাপন

৪. টটেনহ্যাম হটস্পার — ৩ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: মার্কোস সেনেসি, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (আর্জেন্টিনা), পেদ্রো পোর্সো (স্পেন)।

টটেনহ্যামের হয়ে মাঠে ছিলেন আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মার্কোস সেনেসি এবং স্পেনের পেদ্রো পোরো। রোমেরো আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

৫. অ্যাথলেটিক ক্লাব — ২ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: উনাই সিমন, নিকো উইলিয়ামস (স্পেন)।

অ্যাথলেটিক ক্লাবের দুই ফুটবলার এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে উঠেছেন। গোলরক্ষক উনাই সিমন এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে গোল্ডেন গ্লাভ জয়ের অন্যতম দাবিদার।

বিজ্ঞাপন

নিকো উইলিয়ামসও স্পেনের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

৬. মার্শেই — ২ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: জেরোনিমো রুলি, ফাকুন্দো মেদিনা (আর্জেন্টিনা)।

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সের বড় ক্লাব পিএসজি ফাইনালের আগে বিদায় নেওয়ায় মার্শেই এখন সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় থাকা ফরাসি ক্লাব। রুলি ও মেদিনা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে রয়েছেন।

৭. লিভারপুল — ২ জন খেলোয়াড়

খেলোয়াড়: অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (আর্জেন্টিনা), ভিক্টর মুনিয়োস (স্পেন)।

বিজ্ঞাপন

ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে ছিলেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ভিক্টর মুনোজ। ম্যাক অ্যালিস্টার আর্জেন্টিনার হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের ঐতিহাসিক জয়

ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে লা রোজা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। বিপরীতে আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে কার্যকর আক্রমণ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেও তারা আক্রমণে নিষ্প্রভ ছিল।

শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলে স্পেন। আর ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD