ম্যাচ ফি বাড়ার পর একজন ক্রিকেটারের মাসিক আয় কত হবে?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবার না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিকভাবে স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, শুধু বিপিএলে সুযোগ পাওয়া ৬০ থেকে ৭০ জন ক্রিকেটার নয়, প্রথম শ্রেণি, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত খেলা ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা লিগে আগের তুলনায় আর্থিক সুবিধা কমে যাওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তাই এক বছরের জন্য সাময়িক সহায়তার পরিবর্তে ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় বিসিবি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ওয়ানডে বা লিস্ট-এ ক্রিকেটে ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ টাকা। আর টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিসিবি সভাপতি জানান, তিনি অ্যাডহক কমিটিতে যোগ দেওয়ার পর গত এপ্রিলে প্রথম শ্রেণির ম্যাচের ফি ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এরপর এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। সে কারণে আগের ৭০ হাজার টাকা হিসাব ধরেই নতুন ফি বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন তিনি।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন দিনের ক্রিকেটকে চার দিনের ম্যাচে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা চলছে, যাতে নারী ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
নারীদের লিস্ট-এ ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
ম্যাচ ফি বৃদ্ধির ফলে বিপিএল না হওয়া কিংবা ঢাকা লিগে পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার প্রভাব ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয়ে তুলনামূলকভাবে কম পড়বে বলে মনে করছেন তামিম। তার হিসাব অনুযায়ী, পুরো মৌসুম ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললে একজন ক্রিকেটার বেতনসহ বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার সুযোগ পাবেন।
তামিম ইকবাল বলেন, বিভিন্ন ফরম্যাটে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশেরও বেশি। পুরো মৌসুম খেলা একজন ক্রিকেটারের বেতনসহ সম্ভাব্য বার্ষিক আয় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা হলে ১২ মাসের হিসাবে তার মাসিক আয় ৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বিসিবির এই সিদ্ধান্তে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপিএলকেন্দ্রিক আয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।








