Logo

আইসিসির আকস্মিক সিদ্ধান্তে ২৪৪ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪২
আইসিসির আকস্মিক সিদ্ধান্তে ২৪৪ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে শ্রীলঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসের প্রথম আসর। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই আয়োজন দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব কেড়ে নিয়ে ভারতকে নতুন আয়োজক হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক স্বত্ব হারানোর কারণে শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। টুর্নামেন্টকে ঘিরে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক প্রচারের মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল, আয়োজক স্বত্ব হারানোর ফলে তা আর পাওয়া হবে না।

আইসিসি বোর্ড মঙ্গলবার টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতে অনুষ্ঠিত হবে নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। মুম্বাই ও ভদোদরায় আয়োজন করা হবে ম্যাচগুলো।

প্রশাসনিক সংকটেই আয়োজক স্বত্ব হারাল শ্রীলঙ্কা

বিজ্ঞাপন

শ্রীলঙ্কার আয়োজক স্বত্ব হারানোর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আইসিসির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) একটি সরকার-নিযুক্ত ট্রান্সফরমেশন কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আইসিসির স্বীকৃত কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচিত প্রশাসনের পরিবর্তে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা এই ব্যবস্থাকে ভালোভাবে নেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগের সমাধান এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বোর্ড নির্বাচন আয়োজন না করলে আয়োজক স্বত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা কয়েক মাস আগেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে দিয়েছিল আইসিসি।

বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন ক্রিকেট প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হলেও সম্প্রতি পর্যন্ত তা ক্রীড়ামন্ত্রণালয় কিংবা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের নজরে আনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আইসিসির সিদ্ধান্তে শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের দায়িত্ব চলে গেছে ভারতের হাতে।

বিজ্ঞাপন

একই কারণে আগেও বড় আয়োজন হারিয়েছে দেশটি

সরকারি হস্তক্ষেপ ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আইসিসির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বিরোধ এবারই প্রথম বড় আয়োজন হারানোর কারণ হয়নি।

২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। বোর্ডের কার্যক্রমে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তখন গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে সামনে এসেছিল। এর পর ২০২৪ সালের পুরুষদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজনও শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ফলে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে একই ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দ্বিতীয়বারের মতো বড় আইসিসি আয়োজন হারাল শ্রীলঙ্কা। নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্বত্ব হারানোর ঘটনায় দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য

আয়োজক স্বত্ব হারানোর পর শ্রীলঙ্কার সামনে এখন ক্রিকেট বোর্ডের সাংবিধানিক সংস্কার ও নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্সফরমেশন কমিটির সদস্যরা আশা করছেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কোনো বিলম্ব না হলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এসএলসির নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে সংস্কার ও নির্বাচন কত দ্রুত এবং আইসিসির প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন করা যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ছয় দল নিয়ে হবে প্রথম নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নেবে ছয়টি দল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ষষ্ঠ দল হিসেবে সুযোগ পেতে লড়াই হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ষষ্ঠ এবং শ্রীলঙ্কা সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ফলে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ছয়ে জায়গা করে নিতে পারলে শ্রীলঙ্কারও টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ থাকবে।

আয়োজক স্বত্ব হারালেও প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। দলটি যদি যোগ্যতা অর্জন করে শীর্ষ ছয়ের মধ্যে থাকতে পারে, তাহলে ভারতের মাটিতেই তাদের খেলতে দেখা যাবে।

টুর্নামেন্টে ছয় দল একে অপরের বিপক্ষে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে খেলবে। অর্থাৎ প্রতিটি দল লিগ পর্বে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলবে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন

ভারতের হাতে বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন

শ্রীলঙ্কার কাছ থেকে আয়োজক স্বত্ব চলে যাওয়ায় নারী ক্রিকেটের নতুন এই আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে ভারত। মুম্বাই ও ভদোদরায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের উন্নত ক্রিকেট অবকাঠামো এবং বড় দর্শকবাজারকে কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টটি বড় পরিসরে আয়োজনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জন্য এটি শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট আয়োজন হারানোর ঘটনা নয়, বরং বড় একটি অর্থনৈতিক সুযোগও হাতছাড়া হওয়ার বিষয়।

টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পর্যটক, দর্শক, খেলোয়াড় ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের আগমন থেকে সম্ভাব্য আয়, স্থানীয় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক প্রচারের যে সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল, আয়োজক স্বত্ব হারানোর ফলে সেসব সম্ভাবনাও আর থাকছে না।

প্রশাসনিক সংকট দ্রুত সমাধান করতে না পারলে ভবিষ্যতেও শ্রীলঙ্কাকে এ ধরনের আরও আন্তর্জাতিক আয়োজন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক স্বত্ব হারানোর ঘটনায় সেই আশঙ্কাই নতুন করে সামনে এসেছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD