দল জিততে না পারায় কোচের পদত্যাগ, সিদ্ধান্ত মানল না ক্লাব

চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে এএস রোমার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাচেতে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন কোচ ইসমাইল কারতাল। তবে তার সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সভাপতি আজিজ ইলদিরিম জানিয়েছেন, কারতালের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
রোমার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান কারতাল। তিনি বলেন, ক্লাবের ‘পথ সুগম করতেই’ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেনেরবাচেতে আর ফেরার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি।
কারতালের ভাষ্য অনুযায়ী, দল ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু কোচের ঘোষণার পরপরই পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে সামনে আসে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ফেনেরবাচের সভাপতি আজিজ ইলদিরিম এক বিবৃতিতে জানান, কারতালের পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেননি। ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন, কারতাল এখনো দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়ানো এবং তাকে সমর্থন করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের পর কারতালের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ইলদিরিম। সেই আলোচনায় কোচ তার পদত্যাগের পেছনে কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে ছোড়া একটি বোতলের আঘাত পাওয়ার ঘটনাটিও আলোচনায় আসে।
ফেনেরবাচে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ক্লাব জানিয়েছে, বোতল ছোড়ার ঘটনায় জড়িত দর্শককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কারতালকে ঘিরে কিছু সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের অব্যাহত সমালোচনা এবং মানসিক চাপ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইলদিরিম। তার মতে, এমন পরিস্থিতি কোচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
কারতালের আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা খেলোয়াড়দের কাছেও ছিল অপ্রত্যাশিত। ম্যাচে রোমার হয়ে প্রথমার্ধে ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে গোল করেন। পরে ৪৮তম মিনিটে ইংলিশ ডিফেন্ডার আর্চি ব্রাউনের গোলে সমতায় ফেরে ফেনেরবাচে।
ম্যাচ শেষে ব্রাউন জানান, কারতাল দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন কোনো তথ্য তিনি আগে জানতেন না। ফলে কোচের পদত্যাগের ঘোষণা এবং ক্লাব সভাপতির তা প্রত্যাখ্যান—দুইয়ে মিলে ফেনেরবাচের ড্রয়ের রাতটি পরিণত হয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে।








