অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর প্রশ্নের মুখে আনচেলত্তি

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বিশ্বকাপের পর নতুন ফিফা উইন্ডোতেও কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ফিরতে পারেনি দলটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রায় হারতে বসেও শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ ড্র করেছে ব্রাজিল। ফলে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
তবে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, এটিকে নতুন কোনো চক্রের সূচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং গত বছরের জুনে শুরু হওয়া কাজেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্তমান সময়কে দেখছেন তিনি।
ফিফা উইন্ডোর দল ঘোষণার সময় ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) জানিয়েছিল, তরুণ খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ২০২৫ সালের জুনে শুরু হওয়া কাজকে আরও এগিয়ে নেওয়া।
ব্রাজিলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ফুটবলধারা ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রতিভাদের জাতীয় দলে জায়গা করে দেওয়া। একই সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা এবং ক্লাব ফুটবলে ভালো করা খেলোয়াড়দের কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের মাঝমাঠের দুর্বলতা আবারও চোখে পড়ে। বল নিজেদের দখলে থাকার সময় যেমন প্রতিপক্ষের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে পারেনি দলটি, তেমনি বল হারানোর পরও মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা সামলাতে সমস্যা হয়েছে। এই চিত্র বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নরওয়ের বিপক্ষে সমালোচিত ম্যাচটির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে।
আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের শুরুর একাদশে বিশ্বকাপ খেলা সাতজন ছিলেন। অর্থাৎ, দল পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও নতুনদের জন্য শুরুর একাদশে খুব বেশি জায়গা তৈরি হয়নি। অভিজ্ঞদের নিয়ে খেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সমস্যায় পড়েছে ব্রাজিল।
ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩৫৪ মিনিটের গোলখরাও কেটেছে। শেষ দিকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় ব্রাজিল।
বিজ্ঞাপন
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘ড্র হয়েছে বলে এটিকে হার মনে হচ্ছে না। আমার মনে হয়, দলটি জিততে পারত। আমাদের সুযোগ ছিল। কঠিন ছিল এই মাঠে খেলা। গোল হজম করার পর দল যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এটিও সত্য। শেষ পর্যন্ত ড্র প্রাপ্য ছিল। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ এগুলো আমাদের চলমান পরীক্ষারই অংশ। যারা কম খেলে তাদের সুযোগ দিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এটি একটি পরীক্ষা ছিল, পরেরটিও আরেকটি পরীক্ষা হবে।’
মাঝমাঠের সমস্যার আরেকটি দিকও ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে। দানিলো সান্তোস ও ব্রুনো গুইমারেসকে বল দখলে থাকা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো—দুই ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা নিতে হয়েছে। আক্রমণ তৈরির সময় তারা নিচে নেমে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের সময় মাঝমাঠে বড় জায়গা তৈরি হয়েছে। ফলে টাউনসভিলের ম্যাচটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াইয়ে পরিণত হয়।
তবে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘এটি নতুন চক্রের শুরু নয়, গত বছর শুরু হওয়া চক্রের ধারাবাহিকতা। এখন অগ্রাধিকার হলো যারা কম খেলে, তাদের খেলার সময় দেওয়া। এন্ড্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং আমরা ওই পথেই এগিয়ে যাব। সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে হবে। যখন আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা শুরু হবে, দল প্রস্তুত থাকবে।’
বিজ্ঞাপন
ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিলের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলটির পুরোনো দুর্বলতাগুলো কত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। সামনে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আনচেলত্তিকে।








