রাতারাতি তারকা হয়ে শান্তি হারালেন কেপ ভার্দের ভোজিনহা

বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই কেপ ভার্দে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিয়েছে। দলটির সাফল্যের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলকিপার ভোজিনহা। বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর রাতারাতি আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তবে দ্রুত পাওয়া খ্যাতির সঙ্গে জীবনে নেমে এসেছে নতুন এক অস্বস্তি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের আগে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে খেলতেন ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়তে থাকে।
ব্রাজিলিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম কেজ টিভির উদ্যোগে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ৫৬ হাজার থেকে বেড়ে ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এরপর থেকেই বদলে যায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন।
দ্য অবজার্ভারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা জানান, তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা আগের মতো নেই। খ্যাতির কারণে বাইরে বের হলেই মানুষের আগ্রহের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভোজিনহা বলেন, ‘আমি আমার শান্তি ও স্থিরতা হারিয়ে ফেলেছি। আমার আর কোনো ব্যক্তিগত পরিসর নেই, কিংবা আগের চেয়ে অনেক কম। এখন আমি বাইরে যাই, রেস্টুরেন্টে যাই, সেখানে সবসময় কেউ না কেউ আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চায় কিংবা আমার কাছে অটোগ্রাফ চায়। আরও খারাপ ব্যাপার, কেউ আমার ভিডিও করে। আমার জীবনে এটাই সবচেয়ে বেশি বদলে গেছে। আমার মনে হয় না, এ বিষয়ে আমার কিছু করার আছে।’
বিশ্বকাপের ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে বসে ফোনে একের পর এক বার্তা পাওয়ার ঘটনাটিও তার কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। ভোজিনহা জানান, দলের ক্যাটারিং স্টাফের একজন প্রথমে তাকে তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘দলের ক্যাটারিং স্টাফের একজন আমার কাছে এসে বললেন যে আমার এক বিলিয়ন ফলোয়ার আছে। তিনি কী বলছিলেন সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি ভেবেছিলাম তিনি মজা করছেন, কিন্তু তিনি জোর করতে থাকলেন। পরে আমি মিক্সড জোনে কিছু সাক্ষাৎকার দিতে গেলে কেজ টিভি-র একজন সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে আমি জানি কি না কী ঘটছে। তিনি আমাকে তার ফোনটি দেখালেন এবং তখনই আমি দেখলাম যে আমার দশ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
হঠাৎ পাওয়া এই জনপ্রিয়তার চাপ সামলাতে ভোজিনহার সাবেক এক এজেন্টকে দায়িত্ব দেয় ফেডারেশন। নিজেও ফুটবলে মনোযোগ ধরে রাখতে ইনস্টাগ্রামের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন তিনি।
ভোজিনহা বলেন, ‘আমি আমার ইনস্টাগ্রাম নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমি চাইনি কে আমাকে ফলো করছে, সেটা বারবার দেখতে থাকি।’
জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্র্যান্ড থেকেও তার কাছে বাণিজ্যিক প্রস্তাব আসতে থাকে। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রেখেছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষায়, ‘আমি জানি বিশ্বকাপ চলাকালে অনেক কোম্পানি ও ব্র্যান্ড আমার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু যখন আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম তখন আমি কেবল ইউএফএল মোবাইলের প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি জানি না ভবিষ্যতে আর কী প্রস্তাব আসবে। কিন্তু এখন আমি কোনো তামাক, অ্যালকোহল বা বেটিং ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে চাই না।’
খ্যাতির পাশাপাশি তারকা সংস্কৃতির নেতিবাচক দিক নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ভোজিনহা। এমনকি বর্তমান জনপ্রিয় জীবন ও আগের সাধারণ জীবনের মধ্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি কোনটি নিতেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন স্পষ্টভাবে।
ভোজিনহা বলেন, ‘অনেকেই বিখ্যাত হতে এবং জনপরিচিতি পেতে চায়। কিন্তু তারা এই বাস্তবতার কেবল ইতিবাচক দিকটিই দেখে। সত্যি বলতে, আমাকে যদি আজকের জীবন বা আগের জীবনের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, আমি আগের জীবনটাই বেছে নিতাম।’
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর পর অবশ্য ভোজিনহার ফুটবল ক্যারিয়ারেও এসেছে নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তিনি চিলির শীর্ষ ক্লাব কোলো-কোলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি মালির বিপক্ষে আফকন বাছাইপর্বের ম্যাচেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। তবে ৩-১ গোলে হারা সেই ম্যাচের পাশাপাশি মাঠের বাইরের তারকা খ্যাতি সামলানোও এখন তার ক্যারিয়ারের নতুন চ্যালেঞ্জ।








