হামজার জন্মদিনে জয়ের রঙে শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারবে বাংলাদেশ?

শেষ মুহূর্তে ভারত সরে দাঁড়ানোয় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তবে টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে থমাস ডুলির দল। গ্রুপের অন্য তিন দল মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। মাঠের ফলেও তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
এখন পর্যন্ত গ্রুপপর্বে দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে কোনো ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। টানা দুই হারে এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে দলটি।
এবার গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের হিসেবে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিয়মরক্ষার হলেও বিশেষ একটি কারণে দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আজই বাংলাদেশের ফুটবলের অন্যতম আলোচিত মুখ হামজা চৌধুরীর ২৯তম জন্মদিন।
ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার লাল-সবুজের জার্সিতে অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছেন। হামজাকে অনুসরণ করে এরই মধ্যে আরও কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার বাংলাদেশের হয়ে খেলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাদের ঘিরে দেশের ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকেরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তাই ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে হামজার জন্মদিনের বিশেষ উপহার হিসেবে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে পারবেন কি না সতীর্থরা, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
তবে কাগজে-কলমে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ইন্দোনেশিয়াই। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খুব বেশি জায়গা নেই। এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়ে চার ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
বিজ্ঞাপন
এরপরও শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি। তার প্রত্যাশা, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও খেলোয়াড়েরা শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে লড়াই করবে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ফুটবলে মনস্তত্ত্ব অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তার মতে, কোনো দল যদি আগে থেকেই নিজেদের নিয়ে বড় ধরনের ঘোষণা দেয়, তাহলে প্রতিপক্ষও সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য আরও দৃঢ়ভাবে মাঠে নামে।
বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘ফুটবলে মনস্তত্ত্ব খুব বড় ভূমিকা রাখে। আমরা যদি মাঠে গিয়ে বলি—আমরা সবাইকে হারিয়ে দেব, তবে প্রতিপক্ষ আরও সতর্ক হয়ে মাঠে নামবে এবং আমাদের সীমা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। আমরা কী বলেছি বা কী করেছি, তা নিয়ে বাইরে কেন এত মিথ্যা গুঞ্জন ছড়ায়, তা আমার বোধগম্য নয়। বাতাসে ভেসে বেড়ানো সব কথায় কান দেবেন না।’
বিজ্ঞাপন
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের কীভাবে উপস্থাপন করবে, সেটিও তুলে ধরেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার মুখ থেকে কী শুনতে চান? আমি কি বলব যে আমরাই ফেভারিট? আমি কি বলব, আমরা ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ভালো দল এবং ওদের হারিয়ে দেব? নাকি গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের আন্ডারডগ দাবি করে সুযোগটা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে?’
ডুলির ভাষ্য, প্রতিপক্ষ যদি বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়, তাহলে সেটিই লাল-সবুজের দলের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘তারা যেন আমাদের হালকাভাবে নেয়, আর আমরা নিজেদের শতভাগ উজাড় করে দিয়ে ওদের চমকে দিতে পারি। ফুটবলে এমন ঘটনা অহরহই ঘটে, যখন শক্তিশালী দল পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে না এবং একটি আন্ডারডগ দল ফেভারিট দলকে হারিয়ে দেয়।’
নিজের বক্তব্যের উদাহরণ দিতে জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের প্রসঙ্গও টানেন বাংলাদেশ কোচ। তিনি বলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখের কথাই ধরুন। জার্মানি বা পুরো ইউরোপে তাদের হারানো এক কথায় অসম্ভব। কিন্তু অনেক সময় দ্বিতীয় বিভাগের দলও ওদের হারিয়ে দেয়। কেন? কারণ বায়ার্ন হয়তো ওদের গুরুত্ব দিয়ে দেখে না, আর সেই সুযোগটাই ছোট দলগুলো নেয়।’
বিজ্ঞাপন
টানা দুই ম্যাচে হারের পর বাংলাদেশের সামনে এখন শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ। অন্যদিকে হামজা চৌধুরীর জন্মদিন হওয়ায় ম্যাচটিকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও আলাদা। শেষ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় তুলে নিয়ে হামজার বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।








