Logo

আইডলের বিদায়ী ভাষণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এনজো ফার্নান্দেজ

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬
আইডলের বিদায়ী ভাষণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এনজো ফার্নান্দেজ
ছবি: সংগৃহীত

নিজের ফুটবল আইডল লিওনেল মেসির বিদায়ী ভাষণ শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার তরুণ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ অধ্যায়ের আবেগঘন রাতে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে। মুহূর্তটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিজ্ঞাপন

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর আর্জেন্টিনার হয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী বক্তব্য দেন মেসি। ঐতিহাসিক সেই রাতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শকের সামনে কথা বলছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর মেসির বক্তব্যের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে এনজোর আবেগঘন মুহূর্ত। মেসির কথা শুনতে শুনতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে এনজোর সঙ্গে কথা বলে তার অনুভূতি জানতে চায় টিওয়াইসি স্পোর্টস। সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগপূর্ণ জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, দিনটি খুব আবেগের ছিল। অনেক মিশ্র অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি লিও রাতটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।’

মেসির সঙ্গে এনজোর সম্পর্ক শুধু জাতীয় দলের সতীর্থের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের স্বপ্নও। ২০১৬ সালে মেসি যখন প্রথমবার আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন, তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী এনজো তাকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই সময় থেকেই তার মনে ছিল একটি স্বপ্ন—একদিন জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের আদর্শ মেসির সঙ্গে মাঠে নামবেন।

বিজ্ঞাপন

কয়েক বছর পর সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। শুধু মেসির সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগই পাননি এনজো, ভাগ করে নিয়েছেন একই ড্রেসিংরুম। একসঙ্গে অনুশীলন করেছেন, কঠিন সময় পার করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নও হয়েছেন।

মেসিকে লেখা নিজের সাম্প্রতিক বিদায়ী চিঠিতে শৈশবের সেই স্মৃতির কথাও তুলে ধরেছেন এনজো। তিনি লিখেছেন, ‘তুমি যখন বলেছিলে যে জাতীয় দল ছাড়ছো, তখন আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। আমি তখন মাত্র একটি শিশু। তোমার বয়স আর আমার বয়সের হিসাব করতাম। ভাবতাম, আমি কি কখনো তোমার সঙ্গে খেলতে পারব!’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শৈশবের সেই সময়ে এনজোর কাছে মেসির সঙ্গে খেলার স্বপ্ন ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। তিনি হিসাব করতেন, মেসি জাতীয় দলে আর কত বছর থাকতে পারেন এবং তার নিজের প্রথম বিভাগে পৌঁছাতে কত সময় লাগতে পারে। স্বপ্ন ছিল অন্তত একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির সঙ্গে মাঠে নামা।

কিন্তু বাস্তবতা তার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। মেসির সঙ্গে একবার নয়, অসংখ্যবার মাঠে নামার পাশাপাশি বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো। মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এসেছিলাম আমার আইডলের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু প্রথম মুহূর্ত থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন হিসেবে অনুভব করিয়েছিলে।’

মেসির কাছ থেকে পাওয়া ছোট ছোট বিষয়ও এনজোর কাছে ছিল বিশেষ। কখনো ভালো কথা, কখনো পরামর্শ, কখনো আলিঙ্গন কিংবা প্রয়োজনের সময় স্বস্তি দেওয়ার মতো আচরণ—সবকিছুই মনে রাখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরবর্তী ক্যাম্প কেমন হবে, সেটিও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে এনজোর। তিনি লিখেছেন, ‘আজ তোমাকে ছাড়া পরের ক্যাম্পটি কল্পনা করা আমার জন্য কঠিন। মাঠে গিয়ে তোমাকে সামনে না দেখা, ১০ নম্বর জার্সি পরে তোমাকে না দেখা এটা ভাবাই অসম্ভব।’

বহু বছর ধরে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে ১০ নম্বর জার্সিতে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত এনজোর কাছে এই পরিবর্তন সহজ নয়। চিঠির শেষাংশে ফিরে এসেছেন নিজের শৈশবের সেই স্বপ্নের কাছে। তিনি লিখেছেন, ‘কত ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই শিশুটিও কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত—সে আদৌ সময়মতো পৌঁছাতে পারবে কি না।’

মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এনজো বলেন, ‘আমার সঙ্গে তুমি যেভাবে আচরণ করেছ, তার জন্য, তুমি আমাকে যা শিখিয়েছ তার জন্য এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’

বিজ্ঞাপন

মনুমেন্টালে মেসির বিদায়ী ভাষণের সময় এনজোর চোখের পানি যেন তার দীর্ঘদিনের অনুভূতিরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। শৈশবের আইডল থেকে সতীর্থ, এরপর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সহযোদ্ধা—মেসির সঙ্গে এনজোর এই যাত্রার এমন এক মুহূর্তে এসে বিদায় ঘনিয়ে এসেছে, যা তার কাছে ছিল একই সঙ্গে স্বপ্নপূরণ ও গভীর আবেগের।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD