Logo

বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলায় উচ্ছ্বাস ও হৃদয়ভাঙা মঞ্চে বিদায় নিলেন মেসি

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৪৭
বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলায় উচ্ছ্বাস ও হৃদয়ভাঙা মঞ্চে বিদায় নিলেন মেসি
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে তার বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছিল উচ্ছ্বাস, আবেগ ও হৃদয়ভাঙা এক পরিবেশ। ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন দলের খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বসেছিল বিশ্বকাপজয়ীদের মিলনমেলা।

বিজ্ঞাপন

মেসিকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), যাতে তিনি পান একটি স্মরণীয় বিদায়। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্তালে মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট মাত্র ৯০ মিনিটে বিক্রি হয়ে যায়। পরে পুনঃবিক্রয়ের ওয়েবসাইটে প্রতি টিকিটের দাম ২ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি উঠে যায়।

বিদায়ী ম্যাচের আগে থেকেই শুরু হয় আবেগঘন মুহূর্ত। দলীয় বাসে করে স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে মেসিকে শুভেচ্ছা জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো মানুষ। ভক্তদের উচ্ছ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টাইন তারকা। নিরাপত্তাকর্মীরা রাস্তা থেকে সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকেই মেসিকে কাছ থেকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে স্টেডিয়ামে পৌঁছায় আর্জেন্টিনার টিম বাস।

স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আনুষ্ঠানিকতার কারণে প্রায় ৩০ মিনিট পর শুরু হয় খেলা। কিক-অফের আগে মাঠে বিছিয়ে দেওয়া হয় আর্জেন্টিনার বিশাল ‘১০ নম্বর’ জার্সি। তবে সেখানে মেসির নামের পরিবর্তে লেখা ছিল ‘গ্রেসিয়াস’, অর্থাৎ ধন্যবাদ। তখন মেসির নামে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংগীতের সময়ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার সঙ্গে মাঠে ছিল তিন ছেলে—থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। গ্যালারিতে চলছিল আতশবাজির ঝলকানি, আর দর্শকেরা কণ্ঠ মেলাচ্ছিলেন গানে। খেলা শুরুর আগে প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড়ও মেসিকে উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর শুরু হয় মেসির বিদায়ী ম্যাচ। আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামে ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ও ২০২৬ বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০তম মিনিটে মেসির সম্মানে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। প্রায় দুই মিনিট দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে ‘ওলে ওলে মেসি’ স্লোগানে প্রিয় তারকাকে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। আবারও আকাশে দেখা যায় আতশবাজির ঝলকানি।

বিদায়ী ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখেন মেসি। একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে জাতীয় দলের শেষ ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে যান এলএমটেন। ম্যাচ শেষে মনুমেন্তালের আকাশে শুরু হয় ড্রোন শো। সেখানে ফুটে ওঠে ‘গ্রেসিয়াস লিও’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ লিও’ বার্তা।

বিজ্ঞাপন

মেসির বিদায়ী বক্তব্যের আগে আরও এক দফা ড্রোন শো ও সংগীত পরিবেশনা হয়। গায়িকা সোলেদাদ পাস্তোরুত্তি তার জনপ্রিয় গান ‘ব্রিনদিস’ পরিবেশন করেন। সংগীতের সময় মেসিকে হাসিমুখে দেখা যায়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায়ী বক্তব্যে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো মনুমেন্তাল। একদিকে ছিল প্রিয় তারকার বিদায়ের বেদনা, অন্যদিকে ছিল তার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার উদযাপনের আনন্দ।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD