সন্ধ্যার আগেই ১৯ জেলায় ঝড়সহ অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বজ্রপাত এবং বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এটি আরও দুর্বল হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তবে লঘুচাপ দুর্বল হলেও উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্য বেশি থাকায় বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশেষ করে পাহাড়ি জেলা, উপকূলীয় এলাকা এবং নিচু অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট নৌকাগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।







