Logo

টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎহীন চট্টগ্রাম, চরম সংকটে পরীক্ষার্থীরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮
টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎহীন চট্টগ্রাম, চরম সংকটে পরীক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কোথাও টানা দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তারা পড়াশোনা, অনলাইনে শিক্ষা-উপকরণ সংগ্রহ এবং পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়েছে। এবার বোর্ডটির অধীনে ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির জারি করা আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার পরীক্ষাও পৃথকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও বুধবারের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা বর্ষণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় অসংখ্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গাছ উপড়ে ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে মেরামত কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরীক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন জানান, টানা দুই দিন ধরে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না, ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে নোট, ক্লাসের উপকরণ কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সামনে পরীক্ষা থাকায় তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বাকলিয়া শহীদ নূর হোসেন ডা. মিলন মোজাম্মেল জেহাদ ডিগ্রি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরফাত বলেন, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ির পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহানও। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নিয়মিত পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলাতেও বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ পরিবারের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও গাছ পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে, কোথাও খুঁটি ভেঙে পড়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। তবে যেসব এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা বা ভারী বৃষ্টি রয়েছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মেরামত সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। তবে কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার দেখা গেলে সেটির কাছাকাছি না গিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।

টানা বর্ষণ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন হাজারো পরীক্ষার্থী। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরাও।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD