Logo

অবিরাম বর্ষণে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, বাড়ছে পাহাড়ধসের শঙ্কা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৯:৩২
অবিরাম বর্ষণে বিপর্যস্ত রাঙামাটি, বাড়ছে পাহাড়ধসের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে রাঙামাটার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, নৌযান চলাচল, পর্যটন কার্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ জুলাই) টানা চতুর্থ দিনের মতো জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮ শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এদিকে টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী সড়ক এবং পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের উগলছড়ি, বেপারীপাড়া, নিউ লাইল্ল্যা ঘোনা এবং পৌরসভার বটতলী, মাদ্রাসাপাড়া ও হাজীপাড়ার কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নিউটন দাশ জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় জেলাপ্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রচারিভযান চলছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিদ্যমান আবহাওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি বিবেচনা করে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মঙ্গলবার যারা সাজেকে ঘুরতে গেছেন তারা আটকা পড়েছেন। এখন প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে বন্যার পানির কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় এই পর্যটকরা আটকা পড়েছেন।

কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, পানি কমলে তাদেরকে নিরাপদে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।

অপরদিকে টানা বর্ষণের কারণে কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবানের সড়কের চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সার্বিক বিবেচনায় রাঙামাটিতে আজকের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে আট শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরো যারা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে তাদের রাতের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল রাঙামাটি সফরে গিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD