Logo

টানা বর্ষণে লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০২
টানা বর্ষণে লোহাগাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
ছবি: সংগৃহীত

কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় মাটির ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। পানিবন্দি হয়ে পড়া মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহাগাড়া থানার সামনের এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে বন্ধ করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। ফলে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার কয়েকদিন ধরে জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে।

বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে নদী, খাল, বিল ও ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বুধবার সকাল থেকে সদর ইউনিয়ন, আমিরাবাদ, পদুয়া, আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান ও চরম্বা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে দেখা যায়। কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন একটি মনিটরিং সেল গঠন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টানা বর্ষণে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া টংকাবতী খালের পানি উপচে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আধুনগর, পুটিবিলা, চুনতি, বড়হাতিয়া ও কলাউজানের বিভিন্ন এলাকাতেও পানি ঢোকার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়ায় পানি ঢুকেছে এবং উত্তর হরিনা ওঝা পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘর ভারী বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, ডলু খাল ও হাতিয়ার খালের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পানিবন্দি মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD