Logo

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৩:১১
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি নারী মাদরাসায় পাহাড়ধসের মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রথমে আটজনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও পরে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, নিহতরা হলেন ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ ব্লক-১১ এলাকার বাসিন্দা হাসিম উল্লাহর মেয়ে রাশেদা বেগম (১৩), এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩), ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুস শুক্কুরের মেয়ে উম্মে সালমা (১২), ব্লক-৮ এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াছের মেয়ে উমাইচা বিবি (১৩) এবং শামসুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩)।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্প ইনচার্জ (উপসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বুধবার দুপুর প্রায় ২টা ১০ মিনিটে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা নারী মাদরাসা ও হেফজখানার ওপর পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও চারজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। বর্তমানে আহত ছয়জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। তার সেই বক্তব্যের অডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, দুর্ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই প্রথমে আটজন নিহতের তথ্য জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। ক্লাস শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাহাড়সংলগ্ন একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ নেমে আসা মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসার ছুটি হতে তখন আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ঠিক সেই সময় আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে জায়গাটি সমান করার পর সেখানে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে থাকতে পারে।

এদিকে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে।

অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত রোববার থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত জেলায় সাড়ে ৫০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD