কক্সবাজার-বান্দরবানে পাহাড়ধসে প্রাণ গেল ৭ জনের

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার ও বান্দরবানে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় একই পরিবারের দুই শিশু নিহত হয়েছে, আর বান্দরবানের লামায় পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা একই পরিবারের দুই শিশু ও তাদের মা মাটিচাপা পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরপরই নিহত দুই শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, ভোরের দিকে পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি পরিবারের সদস্যরা মাটির নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও দুই শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে একই সময়ে পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসের দুটি পৃথক ঘটনায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারান এবং অন্য ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হন।
বিজ্ঞাপন
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান। এছাড়া অপর ঘটনায় নিহত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে পাহাড়ধসের পর আশপাশের লোকজনের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে মাটিচাপা পড়া পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, লামার আজিজনগর এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।








