Logo

টানা বর্ষণে কাপাসিয়ায় জনজীবন স্থবির, বিপাকে শ্রমজীবীরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৩:১৫
টানা বর্ষণে কাপাসিয়ায় জনজীবন স্থবির, বিপাকে শ্রমজীবীরা
ছবি: সংগৃহীত

আষাঢ়ের শেষ প্রান্তে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে বাজার, সড়ক ও কর্মস্থলে মানুষের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ওপর। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় এবং যাত্রী-ক্রেতার সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যানচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং হকারদের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

বৃহস্পতিবার কাপাসিয়া বাজার, টোক বাজার, বীর উজলী, কাজলদিঘী, আমরাইদ, ডুমদিয়া, রায়েদ, তরগাঁও, সনমানিয়া ও ঘাগটিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ বাজারেই ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে গণপরিবহনে যাত্রী কমে যাওয়ার পাশাপাশি দোকানপাটেও বেচাকেনা কমে গেছে। বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া বাজারের অটোরিকশা চালক জালাল উদ্দীন বলেন, আগে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। এখন ৭০০ টাকাও আয় হচ্ছে না। অথচ গাড়ির কিস্তি, চার্জ এবং সংসারের অন্যান্য ব্যয় আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।

বীর উজলী বাজারের চা বিক্রেতা মফিজ উদ্দিন জানান, বৃষ্টির দিনে মানুষ বাজারে কম আসায় সারাদিন দোকান খোলা রাখলেও বিক্রি আগের মতো হচ্ছে না। অনেক সময় তৈরি করা চাও বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিতে হচ্ছে।

একই বাজারের ভ্যানচালক মো. সোহেল মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও আগের মতো ভাড়া মিলছে না। বৃষ্টি বাড়লে যাত্রী একেবারেই কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

টোক ইউনিয়নের দিনমজুর আব্দুল করিম জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় টানা তিন দিন কোনো কাজ পাননি। সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করতে হচ্ছে।

কাপাসিয়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের বিক্রি হচ্ছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে একদিকে সবজি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রেতা কমে যাওয়ায় লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মিয়া বলেন, ঈদের পর থেকেই ব্যবসা কিছুটা ধীরগতির ছিল। তার ওপর টানা বৃষ্টির কারণে বিক্রি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বীর উজলী বাজারের ব্যবসায়ী সোহরাওয়ার্দী, কাজলদিঘীর মেহেদী হাসান এবং আমরাইদ বাজারের হোসেন আলী জানান, ক্রেতা কমে যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডুমদিয়া বাজারের অটোরিকশা চালক মো. মনির হোসেন বলেন, সারাদিন গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আগের মতো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচা সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় গ্রামীণ জনপদের মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকরাও জমিতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও অন্যান্য কৃষিকাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারছেন না।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং তাদের আর্থিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD