Logo

মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারে ফ্ল্যাশ ফ্লাড

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৫০
মুষলধারে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মৌলভীবাজারে ফ্ল্যাশ ফ্লাড
ছবি: প্রতিনিধি

টানা মুষলধারে বৃষ্টি এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক, বসতঘর ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার মনু, ধলাই, জুড়ি, কন্টিনালা ও অন্যান্য ছোট-বড় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

এতে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া ও খাল উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় কোথাও কোথাও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার রান্না করতে পারেনি এবং নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ কর্মস্থলেও যেতে পারেননি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টায় মনু নদের রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপরে, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার নিচে এবং জুড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মৌলভীবাজার জেলায় ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব মিয়া ও জাকির হোসেন বলেন, বুধবার রাত ১০টার দিকে ধলাই নদের বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে কয়েকটি ইউনিয়নের বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বা বাঁধে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রস্তুতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD