১০ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দুই বিভাগের মোট ১০টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আরও চারটি পয়েন্টে পানি সতর্ক সীমায় রয়েছে। এতে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল অর্থাৎ সিলেট বিভাগের ৪টি প্রধান নদীর ৬টি স্টেশন এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্ট, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার সদর পয়েন্ট, ধলাই নদীর কমলগঞ্জ পয়েন্ট এবং খোয়াই নদীর বল্লা ও হবিগঞ্জ সদর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া এই বিভাগের কুশিয়ারা নদীর শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর স্টেশন বর্তমানে সতর্ক সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৪টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান সদর ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্ট এবং মাতামুহুরী নদীর লামা (বান্দরবান) ও চিরিঙ্গা (কক্সবাজার) পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার হালদা নদীর পানি পাঁচপুকুরিয়া পয়েন্টে সতর্ক সীমায় অবস্থান করছে।
নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ পরিস্থিতিতে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।








