চুনারুঘাটে মেলা 'বান্নী' অনুষ্ঠিত

ব্যাপক আনন্দ ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী গ্রামীণ মেলা (বান্নী) অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় মুখরোচক খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য,
বিজ্ঞাপন
ব্যাপক আনন্দ ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী গ্রামীণ মেলা (বান্নী) অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় মুখরোচক খাবার থেকে শুরু করে খেলনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, নাগরদোলাসহ সব সময়ের মানুষের আনন্দ উদযাপনের সব আয়োজনই ছিল। উপজেলার পৌরসভার উদ্যোগে এবারে আয়োজিত এ মেলা চলে আসছে ২০০/৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
শনিবার (১৪ এপ্রিল) পৌর এলাকার নতুন বাজারে অনুষ্ঠিত এ মেলা বসে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। সারা বছরের কৃষিযন্ত্রসহ অপরিহার্য পণ্য ক্রয়ের জন্য উপজেলার লোকজন এই একটি দিনের অপেক্ষায় থাকে। মেলা উপলক্ষে এখানে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হয়। মেলায় শিশু, কিশোর ও নারী-পুরুষের আগমন মনে করিয়ে দেয় আবহমান বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক মিলনের কথা।
বিজ্ঞাপন
চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র সাইফুল আলম রুবেল বলেন, ‘মূলত কৃষকদের উদ্দেশ্য করেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে খই-বাতাসা, হাওয়াই মিঠাই, মাটির পুতুল পাওয়া যায়। থাকে নাগরদোলাও। মেলায় আরও হরেক রকম জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে লাঙল, জোয়াল, লাঙলের ফলা, মই, দা, কাঁচি, খাঁচা, লাঠি, বর্শা, তুলা, গাইল, ছিয়া, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ অসংখ্য পণ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিলুপ্ত প্রায় মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল এবং শিশুদের খেলনা মেলে এখানে। থাকে হস্তশিল্পসহ সব ধরনের মনিহারি পণ্য। মুসলিম ও সনাতন উভয় ধর্মের লোকজন মিলে এ মেলার আয়োজন করে থাকেন। আবহমান গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হয়। মেলায়,।
বিজ্ঞাপন
সিলেট বিভাগে এটিই বৃহত্তম বৈশাখী মেলা বলে দাবি চুনারুঘাট উপজেলাবাসীর। মিরা রানী নামে এক গৃহবধূ বলেন, মেলা থেকে বঁটি, মাটির পাতিল, কাঠের খেলনা, বিন্নি-খই কিনলাম। প্রতি বছর সংসারের নানা জিনিসপত্র এ মেলা থেকেই কিনে থাকি।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির লস্কর জানান, উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় শুধু চুনারুঘাট নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পছন্দের পণ্য সংগ্রহের জন্য লোকজন ছুটে আসেন। সিলেট বিভাগে এটিই সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলা। মেলা থেকে সারা বছরের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণসহ গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করেন হাজার হাজার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
চুনারুঘাট থানার ওসি রাশেদুল হক জানান, মেলায় মানুষের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। সারাদেশে সরকারি হিসাবে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন করা হলেও চুনারুঘাটে হয় পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ী। আবহমান গ্রাম-বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হয় মেলায়।
বিজ্ঞাপন
আরএক্স/








