সকালে বের হলেই দেখা মেলে এসব বক শিকারিদের

সকালে বের হলে প্রায়শই দেখা যায়, হাতে ফাঁদ নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন মানুষ। গ্রামের বিল, ধানক্ষেত কিংবা খোলা মাঠে গিয়ে তারা বসান সেই ফাঁদ। ভোরের শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর বসে অপেক্ষা করেন শিকারের। একে একে ধরা পড়ে নিরীহ সাদা বক। অল্প সময়েই বেঁধে ফেলা হয় তাদের পাখা–ডানা। এরপর হাঁটতে হাঁটতে ফিরে আসেন এসব শিকারিরা।
বিজ্ঞাপন
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের হারিস্বর গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া এমনই একজন শিকারি। প্রতিদিন ফজরের আজানের পরেই বের হয়ে পড়েন বক শিকারের উদ্দেশ্যে। তার শিকারের প্রধান ক্ষেত্র স্থানীয় বিল আর ধানের জমি। ফাঁদে ধরা প্রতিটি বক তিনি বিক্রি করেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়।
শুধু জাকারিয়া নন, একই এলাকার আরও দুজন মানুষকে বক শিকার করতে দেখা গেছে। যদিও তারা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। জানা যায়, হারিস্বর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামেই তারা বক শিকারে যান।
বিজ্ঞাপন
আইন অনুযায়ী, বকসহ সব ধরনের পরিযায়ী ও দেশীয় বন্যপাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া বন্যপাখি হত্যা, আটক, বিক্রি বা দখলে রাখলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
কিন্তু এসব আইন যে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না, সেটিই চোখে পড়ে ঈশ্বরগঞ্জের বিল ও ধানক্ষেতে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি তো অনেক আগেই বক ধরা শুরু করেছি। আইন-কানুন আমি কেমনে বুঝবো? আমি মূর্খ মানুষ। আমার কাছে তো শুধু এটুকুই—বক ধরলে টাকাপয়সা আসে।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এভাবে প্রতিদিন অসংখ্য বক ধরা হচ্ছে। অথচ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাখি। তারা ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞাপন
পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে নির্বিচারে শিকার চলতে থাকলে এলাকায় বকের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে। এতে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইন প্রয়োগ না হলে একসময় বিল ও ধানক্ষেত ফাঁকা হয়ে যাবে বকের ডাক থেকে।
প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এই অবৈধ শিকার বন্ধ করা। গ্রামীণ অর্থকষ্ট ও জীবিকার অজুহাতে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে তার ক্ষতি বহন করতে হবে সবাইকে।
বিজ্ঞাপন
প্রশ্ন থেকে যায়, অপরাধ স্বীকার করা সত্ত্বেও কেন এখনো বক শিকারের মতো আইনবিরুদ্ধ কাজ চলতে দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন? প্রকৃতির সুরক্ষা কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?








