ইফতার অনুষ্ঠানে উত্তেজনা : দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ এনসিপির এমপি

নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্পাঞ্চলে একটি ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যবসায়ী নেতাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করার জেরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আব্দুল্লাহ আল আমিন-কে প্রায় দুই ঘণ্টা একটি পোশাক কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জামায়াতের পেশাজীবী ফোরামের জেলা শাখা এ আয়োজন করে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ার হোসেন, যিনি ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম, যিনি বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি। ইফতারের আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন হাতেমকে উদ্দেশ্য করে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, ওই ব্যক্তির উপস্থিতির কারণে তিনি মঞ্চে বসতে অস্বস্তি বোধ করছেন।
বিজ্ঞাপন
এই মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সরে গেলে তার অনুসারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পরে বিসিকের ১ নম্বর গেট এলাকার একটি পোশাক কারখানার ভেতরে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। রাত প্রায় ৮টা পর্যন্ত তাকে ওই স্থানে আটকে রাখা হয়। কারখানার বাইরে হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা অবস্থান নেন।
এ সময় ঘটনাস্থলের বাইরে কিছু রাজনৈতিক কর্মীকেও অবস্থান নিতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে রাসেল মাহমুদ নামের এক নেতাকে অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
বিজ্ঞাপন

অবরোধের কারণ সম্পর্কে বিসিক মালিক সমিতির পরিচালক কবির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, তারা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন এবং জানতে চেয়েছেন এমপি কাকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন। এ কারণেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। পুলিশ অবরুদ্ধ ভবনে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিনকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিষয়ে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদ হাতেমের ভূমিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ওই মন্তব্যের পর হাতেমের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ এমপিকে উদ্ধার করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ঘটনাটির একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।








