ছেঁড়া টাকার ব্যবসায়ী সায়িম শেখের জীবনসংগ্রাম

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার লোহাদী গ্রামের সায়িম শেখ (৩৮)। শৈশবে অর্থের অভাবে পড়াশোনা বেশি দূর এগোয়নি। অভাব মেটাতে ছোটবেলাতেই তাকে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হতো।
বিজ্ঞাপন
সংসারের চাপে শিক্ষাজীবন থেমে গেলেও থেমে থাকেননি সায়িম। জীবিকার পথ খুঁজতে খুঁজতে একসময় তিনি পা বাড়ান ভিন্নধর্মী এক ব্যবসায়—পুরাতন ও ছেঁড়া টাকার লেনদেন।
প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি বসবাস করছেন শ্রীপুর উপজেলার কাউরাইদ গ্রামে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন পথচলা। প্রতিদিন ভোরে তিনি ব্যাগ কাঁধে নিয়ে জেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে পুরাতন ও ছেঁড়া টাকার নোট সংগ্রহ করেন। এরপর চাহিদা অনুযায়ী নতুন টাকার সঙ্গে বিনিময় করেন।
পুরাতন টাকার ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ টাকায় ২ থেকে ৩ টাকা কমিশন রেখে দেন। ছেঁড়া নোট কেনাবেচায় নোটের ধরন ও ছেঁড়ার পরিমাণ দেখে দাম ঠিক করেন। সাধারণত ৫০০ টাকার ছেঁড়া নোটে তিনি ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত রাখেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এই ব্যবসায় প্রতিদিন সমান লাভ হয় না। কখনো দিনে ৩০০ টাকা, আবার কখনো হাজার টাকার বেশি মুনাফা হয়। আবার কোনো দিন একেবারেই লাভ থাকে না। মাস শেষে তার গড় আয় দাঁড়ায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এ আয় দিয়েই চলছে তার সংসার—বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ।
তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সায়িম মেঝো। বড় ভাই কৃষিকাজে যুক্ত, আর ছোট ভাই গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে পড়াশোনা করার পাশাপাশি ব্যবসায় তাকে সহযোগিতা করছে।
বিজ্ঞাপন
মানুষের বাড়িতে কাজ করা থেকে শুরু করে ছেঁড়া টাকার ব্যবসায় আসা—সায়িম শেখের জীবন যেন টিকে থাকার গল্প। পরিশ্রম, সততা আর অদম্য মনোবলই তাকে আজ পরিবার সামলানোর শক্তি জুগিয়েছে।








