তরিকুল ইসলামের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা মনিরামপুরের মুছা আর নেই

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের রাজনীতির প্রবাদপুরুষ, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য জননেতা তরিকুল ইসলামের আজীবন সহযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু মুছা আর নেই।
বিজ্ঞাপন
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের রাজনীতির প্রবাদপুরুষ, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য জননেতা তরিকুল ইসলামের আজীবন সহযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু মুছা আর নেই।
শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোররাত অনুমান ৩টা ১০ মিনিটের দিকে যশোর কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
শনিবার দুপুর ২ ঘটিকায় আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে লাখো মানুষের সমাগমে মুছার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মনিরামপুরের প্রখ্যাত আলেম মুফতি ইয়াইহা তার জানাযার নাজাম পড়ান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আবারও ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল যশোর
যশোর জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা আজ ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নীতি ও আদর্শ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণে গভীরভাবে আস্থাশীল মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা যশোর জেলা ও মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি-কে শক্তিশালী, গতিশীল ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নে তার অবদানের জন্য তিনি এলাকাবাসীর নিকট চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আমি তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি তিনি যেন মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ মুছা-কে জান্নাত নসীব এবং শোকাহত পরিবারবর্গকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।”
বিজ্ঞাপন
বিএনপি মহাসচিব শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবর্গ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আলহাজ্ব মুছা ছিলেন মনিরামপুরে বিএনপির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর তিনি উপজেলা বিএনপির প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর টানা ১২ বছর সাধারণ সম্পাদক ও ১২ বছর উপজেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তিন দফা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখেন।
বিজ্ঞাপন
আদর্শিক রাজনীতি, ত্যাগ, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত জীবনধারার কারণে তৃণমূল কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থা ও প্রেরণার প্রতীক। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিকবার হয়রানিমূলক মামলায় কারাভোগ করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে তাঁর ছোট ভাই সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারান, পরিবারও বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়। তবুও কোনোদিন দল থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।
মোহাম্মদ মুছার মৃত্যুতে মনিরামপুরসহ যশোরের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, “মুছা ভাই শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন সৎ ও ত্যাগী কাণ্ডারি হারালাম।”
পরিবারসূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১১ ঘটিকায় তার নিজ ভিটা ১১নং চালুয়াহাটি ইউনিয়নের নেগুড়াহাট মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। মৃত্যুর সময় তিনি দুই পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য গুনিজন রেখে গেছেন।
বিজ্ঞাপন








