ঘুষ ফেরত চাওয়ায় মা-মেয়েকে কারাদণ্ড দিলেন ইউএনও

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মা ও মেয়েকে ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মারধর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী জুবাইদা জন্নাত (২৩) এবং তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮) অভিযোগ করেছেন, পৈতৃক বসতভিটা সংক্রান্ত মামলার তদন্তের জন্য পেকুয়া থানার এসআই পল্লব ২০ হাজার টাকা নেন। জুবাইদা এবং তার মা টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ তাদের মারধর করে থানার গেটে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহাবুব ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা-মেয়েকে একমাসের সাজা দেন।
বিজ্ঞাপন
ইউএনও জানিয়েছেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা ও একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে হাতাহাতির কারণে সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরবর্তী তদন্তে বের হবে।
ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে, এসআই পল্লব আচরণে অমানবিক হয়ে ওঠেন এবং তাদের মারধর শুরু করেন। পরে নারী পুলিশও সেখানে উপস্থিত হয়ে মারধর চালিয়ে তাদের থানার বাইরে নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, আদালত ও ইউএনওর সিদ্ধান্তে তারা হতবাক।
বিজ্ঞাপন
জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল বলেন, আমাদের বোন ও মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা চাই এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করছেন, পেকুয়া থানার ওসি ও এসআই পল্লবের কার্যকলাপ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। তারা অভিযোগ করেছেন, ঘুষ নেওয়ার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে এবং এতে মা-মেয়ের ওপর অযথা নিষ্ঠুরতা প্রয়োগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলম জানিয়েছেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র জানি না।
অভিযুক্ত এসআই পল্লব একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি।
এই ঘটনায় পেকুয়া উপজেলার সাধারণ জনগণ ও সেবাপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশিভিত্তিক এ ধরনের আচরণ নাগরিকদের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে এবং প্রশাসনের ওপর আস্থা নষ্ট করে।








