পেকুয়ায় লবণমাঠ দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, জাসাস নেতাসহ আহত ৩

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় লবণমাঠের দখল আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) এর ইউনিয়ন সভাপতিসহ একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ব্যাঙখোয়াল এলাকার মাঝিরঘোনা লবণমাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, মগনামা ইউনিয়নের মাঝিরপাড়ার মৃত নুরুল হুদার পুত্র ও জাসাসের ইউনিয়ন সভাপতি এহেসানুল করিম (৩৫) তার ছোট ভাই মুহাম্মদ মহসিন (২৫) এবং বোন জান্নাতুল ফেরদৌস (২৭)।আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঝিরপাড়ার এহেসানুল করিম গং ও একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে মো. সেলিম, মৃত মাহমুদুর রহমানের পুত্র জিয়াবুল করিম এবং মৃত আবুল কাসেমের ছেলে শাহাব উদ্দিন গংদের মধ্যে প্রায় তিন একরের বেশি লবণমাঠের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে এহেসানুল করিম গংদের নিযুক্ত বর্গা চাষিরা লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠ প্রস্তুতির কাজ করছিল।
এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা জিয়াবুল করিমের অনুসারী মো. সেলিম, শাহাব উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ ১০-১৩ জন ভাড়াটে লোকজন লবণমাঠে গিয়ে চাষিদের কাজে বাধা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে এহেসানুল করিম তার ভাই-বোনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলার শিকার জাসাস নেতা এহেসানুল করিম বলেন, আমার বাবার নামে চার একর ৯৩ শতকের বেশি বন্দোবস্তিমূলক দলিল রেকর্ডভুক্ত হয়। দলিল, খতিয়ান রেকর্ডভুক্ত আছে। এটি আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা নিয়মিত লবণ উৎপাদন করে আসছি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সেলিমসহ ওই চক্র আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তারা লবণমাঠের কাজে বাধা দিচ্ছে এবং আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসবে বহিরাগত একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধান রয়েছে। আমি বর্তমানে জাসাসের ইউনিয়ন সভাপতি এবং এর আগে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম।
বর্গা চাষি মো. করিম বলেন, কয়েক বছর ধরে আমরা এহেসান ভাইয়ের জমিতে লবণ চাষ করছি। সকালে মাঠের কাজ করছিলাম, হঠাৎ মুজিবসহ কয়েকজন এসে কাজে বাধা দেয়। পরে মালিক পক্ষ আসলে তাদের ওপর হামলা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা খালেদ মোশাররফ বলেন, এ জমি বন্দোবস্তিমূলকভাবে এহেসানের পিতার নামে রয়েছে। বর্তমানে এহেসান ও তার পরিবারকে জুলুম করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ খায়রুল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








