অগ্রিম টিকিট জালিয়াতিতে বন্ধ অন্যের নামে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ

প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে পর্যটক সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এবং টিকিটের ওপর চাপে, জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এমন জালিয়াতি প্রতিরোধে, প্রতিটি টিকিটধারীর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের হার্ডকপি অথবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই যাচাই ছাড়া কোনো যাত্রীকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আজ (১৮ ডিসেম্বর) থেকে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ৬টি অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজ প্রতিদিন চলাচল করছে। প্রথম ১৭ দিনে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করেছেন। অনলাইন ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত ২ হাজার টিকেটই ইস্যু হয়েছে, যা একক দিনের রেকর্ড। আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার টিকিটের মধ্যে অধিকাংশ ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, বর্তমানে মাত্র দুই মাসের মধ্যে দৈনিক দুই হাজার পর্যটক ভ্রমণ করতে পারছেন। সেই কারণে টিকিটের ওপর চাপ অনেক বেড়ে গেছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু অনলাইন এজেন্ট অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করে চড়া দামে কালোবাজারি করছেন। পর্যটকরা অবৈধভাবে অন্যের নামে টিকেট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করছেন। স্থানীয় যুবকরা জালিয়াতির মাধ্যমে টিকেট বিক্রি করছেন বলে পাওয়া গেছে।
ঢাকা থেকে আসা রুমেল হাসান জানান, অনলাইনে টিকেট পাইনি, অনেক দূর থেকে এসেছি, তাই ৪৫০০ টাকায় টিকেট কিনতে বাধ্য হয়েছি।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউনুস জানান, আমরা কোনো জালিয়াতি করছি না, ব্যবসা করছি।
কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রশাসন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাড়তি তৎপরতা চালাচ্ছে। এনআইডি প্রদর্শন ছাড়া কেউ ভ্রমণ করতে পারবে না। ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের হাসান বলেন, টিকেটের নাম অনুযায়ী প্রকৃত এনআইডি হার্ডকপি বা মোবাইল নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত, পরিবেশ অধিদপ্তরের টিম নিয়মিত কাজ করছে। যে কোনো ধরনের জালিয়াতি ও কালোবাজারি প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, জাহাজ চলাচল শুরুর পর থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কালোবাজারির মাধ্যমে পর্যটক হয়রানি কঠোরভাবে দমন করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে।
বিজ্ঞাপন
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা তাসনিম জানান, প্রতিদিন দুই প্রান্তের ঘাটে তদারকি চলবে এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকরা নিরাপদে এবং নিয়মমাফিক ভ্রমণ করতে পারবেন, পাশাপাশি জালিয়াতি ও কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








