Logo

হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যু, লাশ রেখে উধাও স্বামী!

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২২:২৭
হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যু, লাশ রেখে উধাও স্বামী!
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিষপানে অসুস্থ স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লিপি আক্তার (৩৮) নামের ওই নারীর মৃত্যুর পর হাসপাতালেই তাঁর লাশ রেখে স্বামী রাসেল মিয়া চলে গেছেন বলে জানা গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, জোর করে বিষের ট্যাবলেট খাইয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বামীর পরিবার

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লিপি আক্তারকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁর স্বামী। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর রাসেল মিয়া হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জাহরা হোসাইনী আনিন জানান, লিপিকে হাসপাতালে আনার পর বিষক্রিয়ার চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিহত লিপি আক্তার গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের পালান্দর গ্রামের মতি মিয়ার মেয়ে। প্রায় ১৮ বছর আগে একই উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ফুলহর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

লিপির মা নাজমা আক্তারের অভিযোগ, মোটরসাইকেলের কিস্তির টাকা নিয়ে তাঁর মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। এ কারণে একপর্যায়ে তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলের মাসিক কিস্তি ছিল ৮ হাজার টাকা। পরে ৫ হাজার টাকা ও এক বস্তা চাল দিয়ে লিপিকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

নাজমা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৩টার দিকে বাড়িতে ফিরে রাসেল দেখতে পান, বিড়ালে ভাত ফেলে দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিপিকে মারধর করা হয়। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর মেয়ের মুখে জোর করে মাছ মারার ওষুধের ট্যাবলেট খাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলেই লিপির মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের বোন পপি আক্তারও অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে বিষের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে লিপি তাঁকে বিষয়টি জানিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাসেল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংসারে দ্বন্দ্ব বা কথা-কাটাকাটি হতে পারে, তবে লিপিকে নির্যাতন করা কিংবা জোর করে বিষের ট্যাবলেট খাওয়ানোর অভিযোগ সত্য নয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই লিপি আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD