সদরপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার বোমা ও গুলিভর্তি পিস্তল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিচালিত যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি গুলিভর্তি পিস্তল ও চারটি সক্রিয় হাতবোমা (ককটেল) উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই এমন অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে সদরপুর উপজেলা পরিষদের বালুরমাঠসংলগ্ন পরিত্যক্ত আদালত ভবন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
যৌথবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে পরিত্যক্ত আদালত ভবনের পাশে থাকা একটি অব্যবহৃত টয়লেটের ভেতর থেকে একটি জাপানি তৈরি পিস্তল (গুলিভর্তি) এবং চারটি সক্রিয় ককটেল বোমা উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যৌথবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক কারা, কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখেছে—তা জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সদরপুর উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন এবং সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। তারা যৌথবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
সদরপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মধ্যে অভিযান চলাকালে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম, অন্যদিকে সদরপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের চলমান অনুষ্ঠান এবং আগামী ১০ জানুয়ারি ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফের উরস, যেখানে লাখো জাকেরানের সমাগম হওয়ার কথা—এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, হঠাৎ এমন বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি বড় ধরনের নাশকতার ইঙ্গিতও হতে পারে। তারা দ্রুত ঘটনার নেপথ্য উদঘাটন এবং নিরাপত্তা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।








