লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, নির্বাচনে অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কা প্রার্থীর

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশের ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে ২৪ সালের ৫ আগষ্টে। অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হলে ভোট প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন চট্টগ্রাম -১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন। একই আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীও।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থী এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার পতনের পর লোহাগাড়া থানায় দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় তারা থানার পাশাপাশি চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্রাগার থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। অস্ত্র ছাড়াও নগদ অর্থ, জব্দ করা যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া প্রায় ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে পিস্তল (টরাস) ৭টি, পিস্তল (সিজেট) ২টি, পিস্তল (চায়না) ৫টি, শর্টগান ১২টি, গ্যাসগান ৩টি, এসএমজি (চায়না) ১টি এবং রাইফেল (চায়না) ১টি। এর মধ্যে একটি টরাস পিস্তল ও একটি গ্যাসগান উদ্ধার করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ মার্চ রাতে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকায় মাইকে ‘ডাকাত এসেছে’ ঘোষণা দিয়ে নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেক নামে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহত নেজাম উদ্দিনের মরদেহের পাশ থেকে একটি টরাস পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্রটি পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ দিনগত মধ্যরাতে সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা এলাকা থেকে অস্ত্র ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন ও ইসহাককে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল। পরদিন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার কাঠগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবদুল গণি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ওই বাসা থেকে লোহাগাড়া থানা থেকে লুট হওয়া একটি টরাস পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও, গত ২১ এপ্রিল উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ডেপুটি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুট হওয়া টরাস পিস্তল বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. বাবুল ওরফে ডাকাত বাবুল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি একই ইউনিয়নের বনপুকুর নলবনিয়া এলাকার বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলাউজান তেলিপাড়া এলাকায় নাজির হোসেনের বসতভিটা থেকে লোহাগাড়া থানা থেকে লুট হওয়া একটি গ্যাসগান ও ১৭টি টিয়ারশেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিবিলায় মো. রিফাত (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। রিফাত ওই এলাকার সিদ্দিক সওদাগরের পুত্র।
জানা যায়, রিপাতের বসতঘর তল্লাশি করে ২টি এলজি, ৭ রাউন্ড কার্তুজ, ২ লিটার দেশীয় মদ, ৪টি রাম দা, ১টি ড্রোন, ৮টি মোবাইল, ৩টি মেমোরি কার্ড, ১টি মোবাইল ব্যাটারি, ১টি রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার সিগন্যাল ও ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
এলাকার সচেতন মহলের মতে, লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবৈধভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে তারা মনে করেন। পাশাপাশি সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদারেরও দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন: নওগাঁয় ৪২ কেজি গাঁজাসহ, মাদক কারবারী আটক
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, লোহাগাড়া থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তার মতে, নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র অবৈধভাবে ব্যবহৃত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম–১৫ আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, নির্বাচনের আগে থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তার মতে, এখনো এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
সংসদীয় আসন-২৯২ চট্টগ্রাম -১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য। শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য এটি অতীব জরুরি।
লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র বা অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
বিজ্ঞাপন








