নতুন রূপে পুনর্নির্মাণ হবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল

নরসিংদীর রায়পুরায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কারণে সরিয়ে নেওয়া বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতিচিহ্ন ম্যুরালটি এবার আরও বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন নকশায় আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি আয়তনের এই ম্যুরাল নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার অংশ হিসেবে সড়কের পাশে স্থাপিত ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়ক প্রশস্তকরণে নির্ধারিত জায়গার মধ্যে পড়ায় এটি সরিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। তবে বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের অনুমতি নিয়েই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ম্যুরাল অপসারণের বিষয়টি শুধুমাত্র উন্নয়ন কাজের স্বার্থে এবং এটি কোনোভাবেই বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতির প্রতি অসম্মান নয়। বরং নতুন করে আরও দৃষ্টিনন্দন ও বড় আকারে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দূর থেকেই এটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
নতুন ম্যুরালটি আগের ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুটের পরিবর্তে ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট আয়তনের হবে। পূর্বের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করেই এটি নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রথমে ম্যুরালটি রেখে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও বাস্তবতার কারণে সাময়িকভাবে সরাতে হয়েছে। এখন উন্নয়ন এলাকার বাইরে, সড়কের পাশে আগের চেয়ে বৃহৎ পরিসরে ম্যুরালটি স্থাপন করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাতজন সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত বীরের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে তিনি শহীদ হন। তার আত্মত্যাগ ও বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
বিজ্ঞাপন
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রাম তার জন্মভূমি। তার স্মৃতি সংরক্ষণে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে ‘বাংলার ঈগল’ নামে স্মৃতিফলকও স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তার প্রতিকৃতি, জীবনবৃত্তান্ত এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য টেরাকোটার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন আকারে নির্মিত এই ম্যুরাল শুধু বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিকে আরও উজ্জ্বল করবে না, বরং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে অনুপ্রাণিত করবে।








