অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৬ বাংলাদেশিকে ভারতীয় গ্রামবাসীর গণপিটুনি

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আটকের আগে স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতে তাদের মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে আটক ব্যক্তিরা ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পচাভান্ডার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায়। পরদিন সকালে তাদের ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রধান সীমান্ত পিলার ৮৬৬-এর ৩ নম্বর উপপিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি গরু পাচারচক্রের সহায়তায় ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন। মঙ্গলবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার বৈরাগিরহাট ও জুগিরডাঙ্গা এলাকায় স্থানীয়দের নজরে পড়লে গ্রামবাসীরা ধাওয়া করে তাদের আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এবং ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আটকের পর তাদের ওপর মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে বিএসএফ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করা হয়নি। পরে বিএসএফের ১৫৬ ফালাকাটা ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং মাথাভাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন— লিটন মিয়া (৪০), অহেদ আলী (২৮), সার্থক হোসেন (২৫), আশরাফুল ইসলাম (৩০), মশিউর রহমান (৩০) ও জসীনুর রহমান (২৮)। তাদের সবার বাড়ি পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে।
বিজ্ঞাপন
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে এবং কেউ কেউ মাটিতে পড়ে আছেন। ঘটনার পর বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এলাকা ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, ভারতীয় ভূখণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক আটকের বিষয়টি তাদের জানা আছে এবং বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিএসএফের বরাতে তিনি বলেন, আটকরা সম্ভবত গরু পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। স্থানীয়রা ধরে তাদের মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং চিকিৎসা শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হতে পারে।








