ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে ভাইরাল হওয়া শিশুর ওপর হামলা

লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেওয়ায় ভাইরাল হওয়া এক শিশুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত শিশুকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
আহত শিশুর নাম মেহেদী হাসান (১২)। সে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর ও রায়পুর উপজেলার দালালবাজার ও সোনাপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী মহাদেবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুপুরে মেহেদী হাসান বাড়ি থেকে প্রায় এক মাইল দূরে রাস্তার মাথায় গেলে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ৫–৬ জন যুবক তার পথরোধ করে। মোটরসাইকেলগুলোর গায়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের স্টিকার লাগানো ছিল। এ সময় তারা শিশুটিকে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়ার কারণে হুমকি দেয় এবং দাঁড়িপাল্লার স্লোগান দিতে চাপ সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন
মেহেদী এতে অস্বীকৃতি জানালে যুবকরা তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে পাশের একটি গর্তে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। শিশুটির চিৎকার শুনে পাশের এক নারী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহত মেহেদী হাসান জানায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দেওয়ার কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে। ওই নারী সাহায্য না করলে তার প্রাণনাশও হতে পারত।
মেহেদীর মা লাভলী আক্তার বলেন, তার ছেলে রাজনৈতিক বিষয় কিছুই বোঝে না। পরিবারের সবাই ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন করায় আগে থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে এবং তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
এ বিষয়ে দালাল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কয়েক দিন আগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভুঁইয়ার এক পথসভায় স্লোগান দেওয়ার কারণে শিশুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার জেরে শিশুটির ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। সঠিক তথ্য যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, শিশুটির ওপর হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








