Logo

পটুয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১:০১
পটুয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াতের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত চারজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম দফার সংঘর্ষের সূচনা হয়। পরে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবারও দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জামায়াতের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এক অসহায় নারী আর্থিক সহায়তা চাইলে একজন তাকে ৫০০ টাকা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত বিএনপির এক কর্মী ভিডিও ধারণ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে দুই দলের নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনার জেরে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। মিছিল চলাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশের এলাকায় বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয়। এতে সেখানে নতুন করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বিএনপির প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকের সামনে তার গাড়ি আটকে দেন জামায়াত সমর্থকরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনাসহ পৌর শহরের কয়েকটি স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সহিংস পরিস্থিতি চললেও শুরুতে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে পৌর শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সংঘর্ষের পর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থানা ঘেরাও করে বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ, পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। এই ঘোষণার পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনা সম্পর্কে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক মাওলানা দাবি করেন, টাকা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জামায়াতের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং এতে তাদের প্রায় ২০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জনপ্রিয়তা ও সম্ভাব্য বিজয় আঁচ করতে পেরে পরিকল্পিতভাবে এই সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে জামায়াত।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আজকের সহিংসতায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের আগে এ ধরনের সংঘর্ষ এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD