মৌলভীবাজারের চার আসনে কার জয়ে বাজবে শেষ বাঁশি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে চূড়ান্ত লড়াই। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে প্রার্থী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক কৌতূহল—শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে বাজবে বিজয়ের শেষ বাঁশি।
বিজ্ঞাপন
এবারের নির্বাচনে শুধু প্রার্থীরাই নন, তাদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। মৌলভীবাজারের চারটি আসনেই প্রার্থীদের পরিবার-পরিজন ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এতে ভোটারদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী), মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া), মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ)—এই চারটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীরাও সক্রিয় থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-১ আসনে ৬ জন, মৌলভীবাজার-২ আসনে ৮ জন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে ৪ জন এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৬ জনসহ মোট ২৪ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর রাজনীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। ফলে প্রায় দুই যুগের মধ্যে এবারই প্রথম নতুন প্রার্থীদের মধ্যে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। অতীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হওয়া, ২০১৮ সালে রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি ভোটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন, নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনী মাঠে উঠান বৈঠক, পথসভা, সরব প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। যদিও অনেক এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে, তবে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সমর্থকদের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলীয় হিসাব-নিকাশ, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় ইস্যু—এসব নিয়েই ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা।
এদিকে মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে সমর্থন না করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নানকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটি। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, চা শ্রমিকদের অধিকার, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্যসেবাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। অনেকের মতে, এবারের ভোট দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিতে পারে।
চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি নতুন ও তরুণ ভোটারদের ভোটও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের চারটি আসনেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। কে হাসবে শেষ হাসি, আর কার জয়ে বাজবে শেষ বাঁশি—তা জানতে এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিন ও ফলাফলের।








