বিদ্রোহীর ভোট ভাগাভাগিতে বিএনপির দুই হেভিওয়েটের পরাজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার পাঁচটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দেখা গেলেও, অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট ভাগাভাগি পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ে পরিণত করেছে।
বিজ্ঞাপন
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। তবে তার পৈতৃক নিবাস সুজানগরের কারণে স্থানীয় নেতাদের একাংশ তাকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি করেন। বিএনপির আস্থা থাকায় তুহিন নির্বাচনে অংশ নেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করলে ভোট বিভাজন ঘটে। এই সুযোগে জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার বিপুল ভোটে জয়ী হন। ভোট ফলাফলে দেখা যায়, আলী আছগার পান এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট, তুহিন পান এক লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার পান ৩৮ হাজার ২৭ ভোট। তুহিন রিটার্নিং অফিসারে পুনরায় ভোট গণনার দাবি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান হাবিবুর রহমান হাবিব। দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু নির্বাচনে অংশ নিলে ভোট ভাগাভাগি ঘটে। এর প্রভাব পড়ায় হাবিব তিন হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল, যিনি এক লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পান। হাবিব ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট পান, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু পান ২৭ হাজার ৯৭০ ভোট। হাবিবও পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেছেন।
এই দুটি আসনে প্রথমবারের মতো জয়লাভ করেছে জামায়াতে ইসলামী, যা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলাফলে ঘটে। তবে পাবনা-৫ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস জয়ী হয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৯২৫ ভোট পেয়ে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইকবাল হুসাইন পান এক লাখ ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. মাসুদ খন্দকার বলেন, দলীয় প্রার্থীদের খুবই কম ব্যবধানে পরাজয় হয়েছে। এই দুটি আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোট ভাগাভাগি হয়েছে। বর্তমানে আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করছি এবং প্রার্থীদের পুনরায় পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা যাচাই করছি।
বিজ্ঞাপন
অন্য আসনে, পাবনা-১ এ জামায়াতের প্রয়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এক লাখ ২৮ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী শামসুর রহমান পেয়েছেন এক লাখ তিন হাজার ৬৬৩ ভোট। পাবনা-২ আসনে দুই লাখ ১৫ হাজার ৪০৬ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি কে এম সেলিম রেজা হাবিব, জামায়াতের প্রার্থী হেসাব উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ২৪২ ভোট।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় হেভিওয়েট প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে, যা বিএনপির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।








