তড়িঘড়ি নির্মাণে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল ২৬ কোটি টাকার সড়ক

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এর কাশিমপুর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক ভেঙে পড়াকে কেন্দ্র করে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে দ্রুতগতিতে সড়কের ঢালাই ও কার্পেটিং কাজ শেষ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় সড়কের দীর্ঘ অংশে ফাটল দেখা দেয়। এর একদিন পরই একটি বড় অংশ কয়েক ফুট নিচে দেবে যায়। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল তৈরি হওয়ায় পুরো রাস্তা এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল)।
বিজ্ঞাপন
প্যাকেজ-১২-এর আওতায় ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকারও বেশি অর্থে। একইভাবে প্যাকেজ-৫-এর আওতায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা, কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় প্রায় ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকায়।
প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, প্রায় ১ দশমিক ৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—নির্ধারিত মান ও পরিমাণে উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। সড়ক নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের বিরুদ্ধেও চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে কাশিমপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় কয়েক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও একটি স্থানে বড় ধসের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাজুড়ে ফাটল ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক সরকার বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর রাস্তাটি নির্মিত হলেও উদ্বোধনের আগেই তা ধসে পড়েছে। বাকি অংশও যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, সড়কটি নদীর পাড় ঘেঁষা হওয়ায় প্রাকৃতিক কারণেও ধসের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে পরিকল্পনায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে। দোষ প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, সড়ক ধসের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটির প্রধান হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।








