যে হাটে দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও

উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট হিসেবে পরিচিত শাহজাদপুর উপজেলা আজ জাতীয় অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাঁত শিল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই জনপদ শুধু ব্যবসায়িক সমৃদ্ধির গল্পই নয়, বরং স্থানীয় উদ্যোগ, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য উদাহরণ।
বিজ্ঞাপন
মোঘল আমল থেকে এ অঞ্চলে তাঁতে কাপড় বোনার প্রচলন শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় তা শিল্পে রূপ নেয় এবং বৃহত্তর পাবনা অঞ্চলজুড়ে বিস্তার লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতায় শাহজাদপুর হয়ে ওঠে তাঁত শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছার বুননে এখানকার তাঁতশিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম কুড়িয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁত শিল্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এখানকার মানুষের জীবনমান জাতীয় গড়ের তুলনায় উন্নত।
বিজ্ঞাপন
একসময় সোম ও বৃহস্পতিবার সাধারণ হাট বসলেও বর্তমানে রবি ও বুধবার বসে বিশেষায়িত কাপড়ের হাট। এ দুই দিন পুরো এলাকা রূপ নেয় রঙিন বস্ত্রের বিশাল বাজারে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা ভিড় জমান এখানে।
প্রতিটি হাটে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এই বিপুল আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে উপজেলা সদরে বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক শাখা গড়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও এখানে চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই বিরল। স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সচেতনতার কারণে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে লেনদেন করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও হাট সচল থাকে—এমন দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। এমনকি স্থানীয়রা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অনুষ্ঠানও হাটের দিন এড়িয়ে আয়োজন করেন।
শাহজাদপুরের কাপড় এখন শুধু দেশীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এখানে উৎপাদিত কাপড়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের হাতেও পৌঁছে যায়। স্থানীয়দের মতে, আমদানি হওয়া কাপড়ের প্রায় ৬০ শতাংশই ভারতীয় ক্রেতারা কিনে নেন—যা দেশীয় তাঁত শিল্পের মানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়িক গুরুত্বের পাশাপাশি এই হাট এখন দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই বিশাল বাণিজ্য কার্যক্রম দেখতে আসেন। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে শাহজাদপুরকে কেন্দ্র করে একটি সমৃদ্ধ পর্যটন সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, শাহজাদপুরের কাপড়ের হাট প্রমাণ করেছে—স্থানীয় উদ্যোক্তা, ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সুষ্ঠু বিপণন ও নিরাপদ পরিবেশের সমন্বয় ঘটলে একটি অঞ্চল কীভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।








