মৌলভীবাজারে ৬০৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহিদ মিনার

মৌলভীবাজার জেলায় অর্ধেকেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহিদ মিনার নেই। ফলে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৪৮টিতে শহিদ মিনার রয়েছে। বাকি ৬০৩টি বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী শহিদ মিনার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, শহিদ মিনার না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে প্রতীকী মিনার নির্মাণ করে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের স্মরণ করা হয়। আবার কিছু শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ভাষা দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সীমিত আয়োজন হয়েছে। তবে স্থায়ী শহিদ মিনারের অভাব স্পষ্ট।
একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন সজিব বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার থাকা জরুরি। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুত শহিদ মিনার নির্মাণ করা উচিত।
কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে জানান, তাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহিদ মিনার নেই। আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। একটি স্থায়ী শহিদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার অনুপস্থিত। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের দাবি জানানো হবে।








