সিলেটে কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘বালতি ভর্তি কনডম’ উদ্ধার

সিলেটের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দিনভর আন্দোলন ও বিক্ষোভের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হোস্টেল সুপার এবং ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরেজমিনে এসে শিক্ষার্থীদের দাবির আলোকে সংশ্লিষ্ট দুজনকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন এবং একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে ওই কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
পরে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেখানে বালতি ভর্তি কনডমের প্যাকেট দেখতে পাওয়া যায় বলে দাবি করেন বর্তমান ও প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিষয়টি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হোস্টেলে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেন। বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় এলে বুধবার সকাল ১১টার দিকে কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্রী হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে যান। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি মৌখিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেননি। দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
এখন নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে। আদৌ কী ঘটেছিল, কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্তেই মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি তাৎক্ষণিক ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।








